চিত্র- নিজস্ব
কল্যাণ বিশ্বাস, মুর্শিদাবাদ: মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জ শ্রীপত সিং কলেজের সামনে দীর্ঘদিনের পুরনো লেনিনের মূর্তি ভাঙচুরকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়। মঙ্গলবার গভীর রাতে একদল দুষ্কৃতী মূর্তিটি ভেঙে ফেলে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরবর্তী আবহে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলায় শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। প্রাথমিকভাবে এই ঘটনার পেছনে ভারতীয় জনতা পার্টির সমর্থকদের দিকে আঙুল উঠলেও, জেলা ও স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবে এই ঘটনায় দলের ভেতরে থাকা ‘নব্য’ কর্মীদের ভূমিকা নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করেছেন খোদ বিজেপি নেতারাই।
জিয়াগঞ্জ-আজিমগঞ্জ পৌরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা বিজেপি নেতা শঙ্কর মণ্ডল এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “এক সময় আমরা সিপিআইএম করতাম। তখন আদর্শগতভাবে লেনিন বা মার্ক্সবাদকে ধ্রুবতারা মনে করতাম। সময় যত গড়িয়েছে জীবনে যত বয়স বেড়েছে তখন বিজেপিতে আসা। কিন্তু কারও মূর্তি ভেঙে দেওয়া বা আদর্শকে অপমান করার রাজনীতি বিজেপি শেখায় না। যারা এই কাজ করেছে তারা প্রকৃত বিজেপি কর্মী নয়। এটা মানুষের প্রত্যাশায় জল ঢেলে দেওয়ার মতো ঘটনা।” তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় নির্দিষ্ট এক ব্যক্তির নাম উঠে আসছে যার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানানো হবে।
একই সুর শোনা গিয়েছে বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য মনোজ সরকারের গলায়। তাঁর দাবি, “বিজেপির জয়ের পর তৃণমূল থেকে আসা কিছু লোক বিজেপির পতাকা হাতে তুলে নিয়েছে। তারাই এই ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত। তৃণমূলের যে অপসংস্কৃতি, সেটাই তারা এখানে এসে করছে। আমরা পুলিশকে বলেছি এদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে।”
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিজেপির এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। জিয়াগঞ্জ-আজিমগঞ্জ পৌরসভার বর্তমান চেয়ারম্যান প্রসেনজিৎ ঘোষ এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, “গত ১৫ বছর তৃণমূল এই রাজ্যে ক্ষমতায় থাকলেও জিয়াগঞ্জে এই ধরনের কোনও ঘটনা ঘটেনি। জিয়াগঞ্জের মানুষ শিক্ষিত ও সংস্কৃতিমনা, তারা এই ধরনের কাজ কোনওদিনই মেনে নেবে না।” তিনি আরও যোগ করেন, “এখন হঠাৎ করে কিছু নতুন ছেলেকে আবির মেখে পতাকা হাতে ঘুরতে দেখা যাচ্ছে। তারা কোথা থেকে আসছে বোঝা যাচ্ছে না। বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব মুখে বার্তা দিলেও কাজে তার প্রতিফলন ঘটাতে হবে।” চেয়ারম্যান স্পষ্ট জানান যে, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনকে অনুরোধ করা হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করা হবে। এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা ও শুভবুদ্ধিসম্পন্ন নাগরিক সমাজ দ্রুত মূর্তিটি পুনর্নির্মাণ এবং এলাকায় শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানিয়েছেন।