Bangla Jago TV Desk : সুন্দরবনেও যন্ত্রের ব্যবহার লক্ষ্যণীয়ভাবে বাড়ছে । ২০১৯ এ সুন্দরবন এলাকার কৃষকরা যন্ত্রের সাহায্যে ধান চাষ করার উদ্যোগ নেন। সন্দেশখালি ২ নম্বর ব্লকে কৃষি দপ্তরের উদ্যোগে মেকানাইজড প্যাডি ট্রান্সপ্লান্টার মেশিনের সাহায্যে আমন ধানের চারা রোপণের ঘটনা সামনে আসে। স্থানীয় একটি ফার্মার্স ক্লাবকে বিশেষ পদ্ধতিতে পলিথিন শিটের উপর ধানের চারা তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এবার সেই দ্বীপ অঞ্চলে ধান কাটার মেশিনের রমরমা দেখা যাচ্ছে। কেন এভাবে এই প্রত্যন্ত এলাকার চাষের কাজে আধুনিক যন্ত্রের দাপট দেখা যাচ্ছে ? কৃষকরা বলছেন,অকাল ঝড়বৃষ্টিতে ধান চাষ মার খাওয়ার পর সমস্যা হয়।
এরপর দিনমজুররা কৃষিকাজে আগ্রহী না হওয়ায় সমস্যা হচ্ছিল,তাই মেশিনের সাহায্যেই ফসল কাটার চেষ্টা করছেন তাঁরা। কম সময়ে অল্প খরচে ফসল কাটার এই মোক্ষম যন্ত্রই কৃষকদের সুবিধা করে দিচ্ছে।আধুনিক যন্ত্রের মাধ্যমে ১ ঘন্টায় ৬০০ গ্রাম পেট্রোল খরচে ১বিঘা জমির ধান কাটা সম্ভব।তাই সুন্দরবনের হিঙ্গলগঞ্জের কালিতলা এলাকায় চাষীদের মধ্যে এই আধুনিক মেশিনই চাষের গতি বাড়াচ্ছে। এর মাঝে কৃষি আধিকারিকদের বক্তব্য, শ্রমিক দিয়ে এক একর ধান রোয়ার জন্য খরচ হচ্ছে প্রায় আড়াই হাজার থেকে চার হাজার টাকা।
যেখানে যন্ত্রের সাহায্যে ধান রোয়া করতে খরচ পড়ে দেড় হাজার থেকে দু’হাজার টাকা। যন্ত্র ব্যবহারে একদিনে এক থেকে দুই হেক্টর জমির ধান রোয়া করা যায়। সব ধান একসঙ্গে পাকে। প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় ৪০-৫০ শতাংশ বীজধান কম লাগে।এখন যন্ত্রের সাহায্যে ধান কাটার পদ্ধতি চালু হওয়ায় বিকল্প পথে কৃষকের লাভ হচ্ছে।তবে সবক্ষেত্রে যন্ত্রের ব্যবহার বাড়লে, মজুরদের মেহনতের সুযোগ যে কমবে সেই আশঙ্কার কথা শোনাচ্ছেন কৃষিবিশেষজ্ঞরা।
FREE ACCESS