ad
ad

Breaking News

Kapalkundala Temple

বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাসের নামে কালী মন্দির, কোথায় জানেন?

দেখতে ভিড় জমান রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ

Kapalkundala Temple — Heritage Site of Bankim’s Novel

চিত্রঃ নিজস্ব গ্রাফিক্স

Bangla Jago Desk: ‘বাংলা সাহিত্যের সম্রাট’ হিসাবে পরিচিত বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। তাঁর রচিত একটি কাব্য ধর্মীয় উপন্যাস ‘কপালকুণ্ডলা’। ১৮৬৬ খ্রিস্টাব্দে এই উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়। এই কাব্যগ্রন্থের মূল যে বিষয় তাতে দেখা যায়, কপালকুণ্ডলা নামে একটি কাপালিকের পালিতা কন্যা রয়েছে এই কাব্যে, পাশাপাশি রয়েছে নবকুমার এবং কাপালিকের ভূমিকা। (Kapalkundala Temple)

আরও পড়ুনঃ দীপাবলির উপহারে সোরগোল! মহারাষ্ট্র মন্দিরের কর্মচারীরা পেলেন চিকেন মশলা

কাহিনিতে দেখা যায়, কাপালিক নবকুমারকে বলি দেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে রেখেছিলেন মন্দিরে, সেই সময় ওই পালিতাকন্যা কপালকুণ্ডলা তাকে প্রাণে বাঁচান। উল্লিখিত এই মন্দিরটির বাস্তবে অস্তিত্ব রয়েছে। যেটি পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথির দারিয়াপুর গ্রামের কালী মন্দির। এই কাব্যগ্রন্থের প্রকাশের পর থেকেই রীতিমতো জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এই মন্দির। (Kapalkundala Temple)

লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/Banglajagotvofficial

প্রাচীনত্বের দিক থেকে রীতিমতো এর গুরুত্ব রয়েছে। গ্রামবাসীদের বক্তব্য থেকে উঠে আসছে এই মন্দিরটি প্রায় আড়াইশো বছরের কাছাকাছি। তবে বহু যুগ আগে থেকেই মন্দিরটির নামকরণ হয়েছে ‘কপালকুন্ডলা’ (Kapalkundala Temple) কালী মন্দির। তবে গল্পের সঙ্গে কতটা সত্যতা আছে না কাল্পনিক বিষয় তুলে ধরেছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তা কারোর জানা নেই।  তবে, উপন্যাসটি যে কাল্পনিক তা সুস্পষ্ট।

চিত্রঃ নিজস্ব

কপালকুণ্ডলা কাব্যগ্রন্থের ওপর রয়েছে চলচ্চিত্র। যা রীতিমত জনপ্রিয় বাংলা সিনেমা জগতে। তবে এই কপালকুণ্ডলা উপন্যাসটি সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় উপন্যাস বলে জানা যায়।তিনি ১৮৬০ সালে জানুয়ারী মাসে কাঁথির ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট পদে কর্মরত থাকাকালীন এই উপন্যাসটি রচনা করেছিলেন।

কাঁথির দারিয়াপুর গ্রামের মানুষজন তাদের গ্রামে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি মূর্তি স্থাপন যেমন করেছেন পাশাপাশি তার নামকরণ করে একটি মেলাও হয় এই দারিয়াপুর গ্রামে। রসুলপুর নদীর তীরেই রয়েছে এই ছোট্ট গ্রাম আর তার মাঝেই এই কপালকুণ্ডলা মন্দির। তবে এই মন্দিরের বিশেষত্ব হল এখানে বর্তমানে নেই কালী প্রতিমা। বহু বছর আগেই মূর্তিটি নষ্ট হয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি মন্দিরটি রীতিমতো ভগ্নপ্রায় হয়ে পড়ে কালের গতিতে। যদিও বেশ কয়েক বছর আগে মন্দিরটি সংস্কার করা হয়। 

চিত্রঃ নিজস্ব

তবে গ্রামবাসীরা রাস্তার ধারে একটি ছোট্ট কালীমন্দির তৈরি করেছেন এবং যার নাম দিয়েছেন কপালকুণ্ডলা মন্দির। ওই কালী মন্দিরেই নিত্যনৈমিতিক পুজোর পার্বণ চলে । আসন্ন কালী পুজোতেও হবে ওই নতুন মন্দিরে পুজো। কিন্তু গ্রামবাসীদের আক্ষেপ, আসল কপালকুণ্ডলা মন্দিরে কালী প্রতিমা স্থাপন করা হোক। গ্রামবাসীদের আরো বক্তব্য যদিনা এই মন্দিরটি সংস্কার এবং প্রতিমা স্থাপন না করা হয়, তাহলে আগামী প্রজন্মের কাছে কপালকুণ্ডলা মন্দিরের অস্তিত্ব হারিয়ে যাবে। তাই প্রশাসনের উচিত অবিলম্বে এই বিষয়ে নজর দেওয়া। আসন্ন কালীপুজোতেও মূল মন্দিরে হবে না পুজো। আরাধনা হবে গ্রামের কিছুটা দুরে নতুন এই ছোট্ট কালীমন্দিরে।

প্রতিদিনই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসেন বহু পর্যটক। যারা এই কপালকুণ্ডলা মন্দিরের নাম শুনেই আসেন এই এলাকাতে। কিন্তু মূল মন্দিরে গিয়ে হতাশ হয়ে বাড়ি ফেরেন।  সব মিলিয়ে নজর দিক প্রশাসন এই ঐতিহাসিক কালীমন্দিরে, এমনটাই দাবি এলাকার মানুষের। (Kapalkundala Temple)