চিত্র: সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: আজ থেকে দেড়শো বছরেরও বেশি আগে সারা বাংলা তুলকালাম হয়ে গিয়েছিল এমনই এক ঘটনায়। লোকের মুখে মুখে ফিরেছিল এলোকেশী, মোহন্ত আর নবীনচন্দ্রের কথা। তখন কোথায় সোশাল মিডিয়া, কোথায় টিভি! তবুও দাবানলের মতোই ছড়িয়ে পড়েছিল সেই খবর। কালীঘাটের পট থেকে পাঁচালি গান কিংবা প্রহসনের জন্ম হয়েছিল। এত বছর পরও তাই থেকে গিয়েছে সেদিনের উত্তেজনার জলছাপ (Kalighat Pat)।
কালীঘাটের পট (Kalighat Pat) থেকে প্রহসন, এলোকেশীকে ঘিরে সেই সময় বাংলাজুড়ে ছিল তুমুল চর্চা। কালীঘাটের পট হল একটি বিশেষ ধরনের ভারতীয় চিত্রশিল্প যা ১৯ শতকে কলকাতার কালীঘাট কালী মন্দিরের আশেপাশে পটুয়াদের দ্বারা বিকাশ লাভ করে। এই শিল্পধারার বৈশিষ্ট্য হল উজ্জ্বল রঙ, বলিষ্ঠ তুলির চালনা এবং স্পষ্ট রূপরেখা, যা পৌরাণিক কাহিনী, হিন্দু দেবদেবী এবং সমসাময়িক সামাজিক ঘটনার চিত্র ফুটিয়ে তোলে। এটি তীর্থযাত্রীদের জন্য স্মারক হিসেবে বিক্রি হত এবং এটি একটি স্বতন্ত্র শিল্পকলায় পরিণত হয়।
কালীঘাটের পট বাংলার শিল্পকলার মৌলিক অবদান। হিন্দু দেব-দেবী বা রোজনামচা জীবনের প্রতিচ্ছবি বার বার ধরা পড়েছে বাংলার অতিপ্রাচীন এই পট শিল্পে ৷ একদিকে ১৯ শতকের সমাজের তথাকথিত ‘ভদ্রলোক’ সম্প্রদায় অন্যদিকে প্রদীপের নিচে অন্ধকারের মতো ‘বাবু আর বাজার’ কালচার, কলকাতার অন্য ছবি তুলে ধরে (Kalighat Pat)৷
কলকাতার কালীঘাটের পটশিল্পীদের চিত্রে আকৃষ্ট হন যামিনী রায়। কালীঘাট চিত্রকলা অর্থাৎ তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী কলকাতা শহরে কালীঘাটের কালীমন্দিরের সন্নিহিত এলাকার মন্দিরকে কেন্দ্র করে হাট-বাজার গড়ে উঠেছিল। কালীমন্দিরে যে তীর্থযাত্রীরা আসতেন, ফেরার পথে স্মারক হিসেবে স্মৃতিচিহ্নমূলক বস্তু সঙ্গে নিয়ে যেতেন।
কালীঘাটের কালীমন্দিরের সাথে সংযুক্ত থাকার কারণে স্মারক হিসেবে কালীঘাট চিত্রকলার উদ্ভব ঘটেছিল। চিত্রকলার বিষয় ছিল পৌরাণিক, ধর্মীয় অথবা পশুপাখি জাতীয় গ্রামীণ চিত্র। এগুলোই স্থানীয়রা নিজস্ব রঙে-ঢঙে আঁকতেন, যা কালীঘাট চিত্রকলা নামে বিখ্যাত ছিল। এমন করে শুধু কালীঘাট নয়, জন্মস্থান বেলিয়াতোড়, ওড়িষ্যা, প্রাচীন গুজরাট, মেদিনীপুর ঝাড়গ্রাম থেকেও প্রচুর পট সংগ্রহ করেন যামিনী রায় (Kalighat Pat)।