চিত্রঃ সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সোমবার রাতেই মরসুমের প্রথম কালবৈশাখীর সাক্ষী থাকল তিলোত্তমা। রাত প্রায় সওয়া ন’টা নাগাদ প্রায় ৭২ কিলোমিটার বেগে ঝড় আছড়ে পড়ে কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায়। কয়েক মিনিটের তীব্র ঝোড়ো হাওয়া ও শিলাবৃষ্টির জেরে শহরের একাধিক এলাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। তবে এই ঝড়ের ফলে গত কয়েকদিনের অস্বস্তিকর গরম থেকে খানিকটা স্বস্তি পেয়েছেন শহরবাসী।
ঝড়ের প্রভাবে কলকাতার তাপমাত্রাতেও উল্লেখযোগ্য পতন ঘটেছে। এক ধাক্কায় শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা প্রায় ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে যায়। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার কলকাতায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে আসে ১৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া অস্থির থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর থেকে শ্রীলঙ্কা উপকূল হয়ে কোমোরিন অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত একটি ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে রাজ্যে প্রচুর জলীয় বাষ্প ঢুকছে। এর জেরেই আবহাওয়ার এই পরিবর্তন বলে মনে করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, ঝাড়গ্রাম এবং পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় হালকা বৃষ্টির সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। বুধবার পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং দুই বর্ধমান জেলায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতে আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকতে পারে।
তবে ১৯ থেকে ২১ মার্চের মধ্যে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির দাপট আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। বিশেষ করে শনিবার দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও আবহাওয়ার এই খামখেয়ালিপনা বজায় থাকবে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ার জেলায় আজ ও আগামীকাল হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
এছাড়া ১৯ মার্চ থেকে ২১ মার্চ পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি হতে পারে। এমনকি ২২ মার্চও কয়েকটি জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। সব মিলিয়ে আগামী কয়েকদিন রাজ্যজুড়েই কালবৈশাখী ও বৃষ্টির প্রভাব বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।