চিত্র: নিজস্ব
সনাতন গরাই, দুর্গাপুর: বীরভূম ও পশ্চিম বর্ধমানের সংযোগের জন্য অজয় নদের ওপর তৈরী হয়েছে জয়দেব সেতু। ১৬৩ কোটি টাকা ব্যয়ে কাঁকসার শিবপুর থেকে জয়দেবের মাঝে নির্মিত এই সেতুর উদ্বোধন করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চলতি বছরের ২৯ জুলাই। আর এই সেতু বর্তমানে দু-জেলার মানুষের কাছে লাইফলাইন (Joydev Bridge)। বহুদিন ধরেই অজয় নদ পারাপারে নাজেহাল ছিলেন দুই জেলার বাসিন্দারা। আগে মাটির অস্থায়ী সেতুর উপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হতো মানুষকে। বর্ষায় সেতুটি ভেঙে পড়লে যাতায়াত বন্ধ হয়ে যেত। কবি জয়দেবের পুণ্যভূমি প্রত্যাবতী মন্দিরে যাত্রা হোক বা বীরভূম থেকে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কে ওঠা—সর্বত্রই ছিল দুর্ভোগ। অবশেষে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে সেই সমস্যার চিরতরে অবসান ঘটল।
আরও পড়ুন: রাজধানীর পরিচয় বদলাবে? দিল্লির নামবদলের দাবিতে তোলপাড় রাজনীতি
বীরভূমের জয়দেবের এবং পশ্চিম বর্ধমানের বিদবিহারের অজয় নদের উপর তৈরি হয়েছে এই স্থায়ী সেতু। বর্তমানে এই নতুন সেতু দিয়ে পণ্যবাহী ট্রাক থেকে শুরু করে যাত্রীবাহী বাস নির্বিঘ্নে চলাচল করছে। উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে এক নতুন যোগাযোগের মেলবন্ধন তৈরি হয়েছে। সরকারি বাস পরিষেবাও চালু হয়েছে এই রুটে। অজয়ের বন্যার সময়ও আর বন্ধ হবে না দুই জেলার সংযোগ পথ। (Joydev Bridge)
লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/Banglajagotvofficial
স্থানীয় বাসিন্দারা মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগে উচ্ছ্বসিত। অন্যদিকে জয়দেব সেতুর জন্য বীরভূমে জয়দেবের জন্মভিটে, প্রাচীন মন্দির, শান্তিনিকেতন, কঙ্কালীতলা, ফুল্লরা তলা-সহ পর্যটন কেন্দ্রগুলির সঙ্গে সঙ্গে এপারের পশ্চিম বর্ধমান জেলার কাঁকসার জঙ্গলমহলের দেউল, শ্যামরূপার মন্দির দর্শনে আরও বহু মানুষের সমাগম হচ্ছে । দুই জেলার মানুষকে এর আগে ২০-২৫ কিলোমিটার ঘুর পথে যাতায়াত করতে হত। তবে এই সেতুর জন্য পশ্চিম বর্ধমান ও বীরভূমের মানুষের সেই ভোগান্তি দূরীভূত হয়েছে । (Joydev Bridge)
এই প্রসঙ্গে স্থানীয় এক কলেজের অধ্যক্ষ প্রসেনজিৎ ঘোষ বলেন,আমি প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করি। আগে প্রাণ হাতে করে অজয় পার হতাম। এখন সেতুর জন্য নিরাপদে যেতে পারছি। মুখ্যমন্ত্রী না থাকলে এই সেতু কোনোদিন সম্ভব হতো না।স্কুল শিক্ষিকা আনন্দময়ী গড়াই জানান,বর্ষায় আগের মতো কুড়ি কিলোমিটার ঘুরে স্কুল যেতে হবে না। এখন সহজেই পৌঁছনো যায়। এজন্য মুখ্যমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ।রাজ্যের পঞ্চায়েত, গ্রামোন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার বলেন, মুখ্যমন্ত্রী কথা দিয়ে কথা রাখেন। জয়দেব সেতু ছিল মানুষের বহুদিনের দাবি। সেই দাবি পূরণ হয়েছে আজ। আমরা মুখ্যমন্ত্রীকে কুর্নিশ জানাই।
উল্লেখ্য, অজয় নদ পেরনোর জন্য সাধারণ মানুষের প্রচুর ভোগান্তিতে পড়তে হত। বর্ষার সময় সেই পথ পেরনো আরও দুঃসহ হয়ে যেত বলে খবর। রাজ্য সরকার অজয় নদের উপর সেতু নির্মাণের জন্য উদ্যোগী হয়েছিল। এরফলে অজয়ের বুকে গড়ে ওঠা জয়দেব সেতু শুধু দুটি জেলা নয়, উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের মানুষকে আরও কাছাকাছি এনেছে। উন্নয়নের ধারায় নতুন নজির তৈরি করেছে জয়দেব সেতু। (Joydev Bridge)