চিত্রঃ নিজস্ব
সুব্রত রায়, জলপাইগুড়ি: রাজ্যে পালাবদল হতেই জলপাইগুড়ি জেলার বিভিন্ন গ্ৰাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল কংগ্রেস থেকে নির্বাচিত প্রধান উপপ্রধানরা পদত্যাগ করেছেন। বর্তমানে সেই সব গ্রাম পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠন চলছে। আর স্বাভাবিকভাবেই সেই গ্রাম পঞ্চায়েতগুলোতেও পালাবদলের ছোঁয়া লেগেছে। বৃহস্পতিবার ধূপগুড়ি ব্লকের দুটি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং ডুয়ার্সের মাটিয়ালী ব্লকের একটি গ্রাম পঞ্চায়েতের দখল নিল বিজেপি। এদিন কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে জেলার ওই তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠন সভা হয়। এদিন ধূপগুড়ি ব্লকের মাগুরমারি ২ গ্রাম পঞ্চায়েতে এক প্রকার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রধান মনোনীত হন রত্না রায় এবং উপপ্রধান মনোনীত হন বিপ্লব রায়। এরপরই আনন্দ উল্লাসে মেতে ওঠেন বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। প্রধান এবং প্রধানকে নিয়ে কার্যালয়ে থেকে বেরিয়ে জলঢাকা বাজারে মিছিল করেন কর্মী সমর্থকরা। প্রধান এবং উপপ্রধান দায়িত্ব নেওয়ার পর বলেন, ‘আগামী দিনে গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার মানুষকে পরিষেবা দেওয়াই আমাদের প্রধান লক্ষ্য হবে।’
সেইসাথে এদিন ধূপগুড়ি ব্লকের মাগুরমারি ১ গ্রাম পঞ্চায়েতেও প্রধান নির্বাচন নিয়ে সভা হয়। সেখানে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে নির্বাচিত কোনো সদস্য উপস্থিত হননি বলে জানা গেছে। বিজেপির পক্ষ থেকে প্রধান মনোনীত হন দিপালী রায় এবং উপপ্রধান মনোনীত হন হরকান্ত রায়। এখানেও কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখা।বোর্ড গঠনের পর আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠেন বিজেপি নেতা কর্মী সমর্থকরা।
পাশাপাশি ডুয়ার্সের মাটিয়ালী ব্লকের বিধাননগর গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রধান গঠনের নির্বাচন সভা হয়। সভায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রধান হিসেবে আশা মনি টুডু মনোনীত হন। এদিন প্রধান মনোনীত হওয়ার পর আনন্দ উল্লাসে আবির খেলেন বিজেপির নেতাকর্মীরা। নব মনোনীত প্রধানকে সাথে নিয়ে গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয় থেকে কলাবাড়ি বাজার থেকে কাচু মোর পর্যন্ত হয় মিছিল। উল্লেখ্য এই গ্রাম পঞ্চায়েতের মোট সদস্য সংখ্যা ১৯। এদিনের সভায় মোট ১৫ জন পঞ্চায়েত সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের ৪ জন নির্বাচিত পঞ্চায়েত সদস্য উপস্থিত ছিলেন না সভায়। উপস্থিত ১৫ জন পঞ্চায়েত সদস্যের মধ্যে বিজেপির ৩,তৃণমূল কংগ্রেসের ১২ জন পঞ্চায়েত সদস্য উপস্থিত ছিলেন। জেলা জুড়ে একের পর এক গ্রাম পঞ্চায়েতে পালা বদল হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই রীতিমতো উজ্জীবিত জেলা বিজেপি শিবির।