ad
ad

Breaking News

মালোপাড়া বারোয়ারির জলেশ্বরী পুজো

জলেশ্বরী পুজোর জন্য ছেলেদের পরতে হয় শাড়ি! কেন জানেন?

Bangla Jago Desk: পশ্চিমবঙ্গের কৃষ্ণনগরের মালোপাড়া বারোয়ারির জলেশ্বরী পুজো একটি ঐতিহ্যবাহী পুজো। এই পুজো রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের রাজবাড়ির পুজোর পর কৃষ্ণনগরের সবচেয়ে পুরোনো পুজো। এই পুজোর বিশেষত্ব অনেক। এই পুজোর একটি বিশেষ নিয়ম হল, পাড়ার ছেলেরাই শাড়ি কপালে টিপ পড়ে ঢাক ঢোল সহকারে বাজনা বাজিয়ে যায় জল ভরতে। পুজোর আগের দিন মাঝ রাতে মেয়েরাই পাড়ার ছেলেদের […]

Bangla Jago Desk: পশ্চিমবঙ্গের কৃষ্ণনগরের মালোপাড়া বারোয়ারির জলেশ্বরী পুজো একটি ঐতিহ্যবাহী পুজো। এই পুজো রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের রাজবাড়ির পুজোর পর কৃষ্ণনগরের সবচেয়ে পুরোনো পুজো। এই পুজোর বিশেষত্ব অনেক। এই পুজোর একটি বিশেষ নিয়ম হল, পাড়ার ছেলেরাই শাড়ি কপালে টিপ পড়ে ঢাক ঢোল সহকারে বাজনা বাজিয়ে যায় জল ভরতে। পুজোর আগের দিন মাঝ রাতে মেয়েরাই পাড়ার ছেলেদের পড়িয়ে দেন শাড়ি। এরপর ঢাকের বাজনা সহযোগে সেই শাড়ি পরিহিত ছেলেরাই মা জলেশ্বরীর পুজোর জন্য যান জল ভরতে।

জল ভরার সময় রাস্তায় তিন দেবতার মন্দিরে এসে তাঁরা আমন্ত্রণ জানিয়ে যান। এবং সেই আমন্ত্রণের মধ্যে দিয়েই করা হয় মা জলেশ্বরীর পুজোর সূচনা। এই পুজোর আরেকটি বিশেষত্ব হল, ধুনোপোড়ানো। একজন মানুষের মাথায় ও দুই হাতে ধুনো পোড়ানো হয়। লেলিহান শিখা ছুঁয়ে যায় মন্দিরের ছাদ। মালোপাড়ার মা জলেশ্বরীর বিসর্জন কৃষ্ণনগরের ঐতিহ্যশালী সাঙ এর দ্বারা হয় না। অর্থাৎ, কাঁধে হয় না। গাড়িতে হয় এবং একমাত্র ওঁনার সামনে এখনও জ্বলে কার্বাইট গ্যাসের বাতি। এই পুজোয় এখনও ছেলেরাই শাড়ি পরে জল সাজতে যান।

উল্লেখ্য, বঙ্গের নবাব তখন আলিবর্দি খাঁ। তাঁর রাজত্বকালে নদীয়ার রাজার কাছ থেকে ১২ লক্ষ টাকা নজরানা দাবি করা হয়। কৃষ্ণচন্দ্র রায় তা দিতে অস্বীকার করলে তাঁকে বন্দি করে নিয়ে যাওয়া হয় মুর্শিদাবাদে। ছাড়া পেয়ে রাজা যখন নদীপথে কৃষ্ণনগরে ফিরছেন শুনতে পেলেন মা দুর্গার বিসর্জনের বাজনা। সেই বছর দুর্গাপুজো করতে না পারায় অত্যন্ত দুঃখ পান তিনি, এবং তার পরেই দেবীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে শুরু করেন জগদ্ধাত্রী পুজো। মালোপাড়া বারোয়ারির জলেশ্বরী পুজো কৃষ্ণনগরের একটি ঐতিহ্যবাহী এবং গুরুত্বপূর্ণ পুজো। এই পুজোতে অনেক ঐতিহ্যবাহী আচার-অনুষ্ঠান পালন করা হয়। এই পুজো কৃষ্ণনগরের সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

Free Access