ad
ad

Breaking News

Jagannath

‘ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছিল’, ফাঁস দিঘায় জগন্নাথ মূর্তি উদ্ধারের রহস্য

খাদালগোবরা গ্রামের কল্পনা জানার বাড়ির দুর্গা মন্দিরে হঠাৎ করেই একটি জগন্নাথ দেবের মূর্তি রেখে যায় পাশের বস্তির কিছু ছেলে।

'It was floated away', reveals the mystery behind the recovery of the Jagannath idol in Digha

চিত্র: সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: উদ্ধার হওয়া জগন্নাথ মূর্তি ভেসে আসেনি! মূর্তিটি ভাসিয়ে দিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন খাদালগোবরা গ্রামের কল্পনা জানা। এই ঘটনার সূচনা প্রায় এক বছর আগে। খাদালগোবরা গ্রামের কল্পনা জানার বাড়ির দুর্গা মন্দিরে হঠাৎ করেই একটি জগন্নাথ দেবের মূর্তি রেখে যায় পাশের বস্তির কিছু ছেলে। তারা জানায়, সমুদ্রের ধারে খেলে বেড়ানোর সময় পরিত্যক্ত অবস্থায় মূর্তিটিকে খুঁজে পেয়েছিল। হয়তো আগে কোথাও পুজো হত, পরে অযত্নে পড়ে থাকায় তারা সেটিকে মন্দিরে রেখে আসে।

কল্পনা জানা বিশ্বাস করতেন, একবার মূর্তি ঘরে বা মন্দিরে এলে তাকে ফেলে দেওয়া যায় না। তাই তিনি যত্ন করে সেই জগন্নাথের পুজো শুরু করেন, নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী নিয়ম পালন করেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মূর্তিতে ক্ষয় হতে থাকে। সম্প্রতি দেখা যায়, মূর্তির মাথায় একটি বড় ফাটল তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি একটি হাতও ভেঙে যায়।

এই অবস্থায় কল্পনা জানা দোটানায় পড়েন। ফেলে তো দিতে পারেন না, আবার পুজো করাও সম্ভব হচ্ছিল না। অবশেষে ধর্মীয় রীতি মেনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় মূর্তিটিকে সমুদ্রে বিসর্জন দেওয়ার। রবিবার দুপুরে স্থানীয়দের সহায়তায় মূর্তিটিকে সমুদ্রে ভাসিয়ে দেওয়া হয়।

তবে বিসর্জনের কিছুক্ষণ পরই মূর্তিটি ভাসতে ভাসতে মাইতি ঘাটের কাছে চলে আসে। জগ্ননাথ মূর্তি ভেসে আসার দৃশ্য দেখে অনেকেই অবাক হন, কেউ কেউ সেটিকে অলৌকিক বলেও মনে করেন। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, সমুদ্রের স্রোতের টানে মূর্তিটি পাড়ে চলে আসে।

উল্লেখ্য, দিঘার সৈকতে এক অভিনব ও বিস্ময়কর ঘটনা ঘটল জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনের ঠিক আগে। ৩০ এপ্রিল অক্ষয় তৃতীয়ার দিনে শুভ উদ্বোধন হতে চলেছে দিঘার নতুন জগন্নাথ মন্দিরের। তার ঠিক ১০ দিন আগেই, রবিবার বিকেলে মাইতি ঘাটের কাছে সমুদ্রের জলে হঠাৎ ভেসে ওঠে একটি কাঠের জগন্নাথ দেবের মূর্তি।

একদিকে যখন জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনের জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে, অন্যদিকে এই আকস্মিক ও রহস্যঘেরা ঘটনার সাক্ষী থাকল দিঘার সৈকত। ভক্তি, বিস্ময় ও আবেগ মিলেমিশে তৈরি হয়েছে এক অপূর্ব পরিবেশ, যা এই পবিত্র মন্দির উদ্বোধনের প্রাক্কালে নিঃসন্দেহে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।