চিত্র- সংগৃহীত
AK Bangla Desk: ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেশাত্মবোধ ও জাতীয় চেতনার আবহে রাজ্যজুড়ে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা দিবস পালন করল হিন্দু জনজাগৃতি মহাসভা। নদীয়া, বর্ধমান শহর ও কলকাতা মহানগরসহ রাজ্যের বিভিন্ন সাংগঠনিক এলাকায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্মরণ, দেশাত্মবোধক গান, আলোচনা সভা এবং সামাজিক সচেতনতা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সংগঠনের সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেন। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিগুলিতে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস এবং স্বাধীনতা অর্জনের পেছনে থাকা অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, স্বাধীনতা কেবল একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দেশের মানুষের দীর্ঘ সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও আত্মমর্যাদার ইতিহাস। তাই স্বাধীনতার মূল্যবোধকে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং দেশের প্রতি দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নদীয়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় সংগঠনের উদ্যোগে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর স্বাধীনতা সংগ্রামী ও শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। বিশেষ করে শিশু ও যুবকদের অনুষ্ঠানে যুক্ত করে দেশের ইতিহাস, জাতীয় পতাকার মর্যাদা এবং নাগরিক দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। দেশাত্মবোধক গান ও বক্তব্যের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার তাৎপর্য তুলে ধরা হয়। বর্ধমান শহরেও সংগঠনের পক্ষ থেকে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সংগঠনের কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষও সেখানে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে দেশের ঐক্য, অখণ্ডতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের বিষয়ে আলোচনা হয়। বক্তারা বলেন, দেশের উন্নয়ন ও সমাজের কল্যাণে প্রত্যেক নাগরিকের নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করা প্রয়োজন।
একইভাবে কলকাতা মহানগরেও স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে হিন্দু জনজাগৃতি মহাসভা।

মহানগরের বিভিন্ন সাংগঠনিক স্তরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, দেশাত্মবোধক কর্মসূচি এবং স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্মরণ করা হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জাতীয় দিবসগুলিকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে দেশপ্রেম ও জাতীয় চেতনা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এই ধরনের কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে। স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে হিন্দু জনজাগৃতি মহাসভার কেন্দ্রীয় সভাপতি শ্রী আকাশ সাধু বলেন, “৮০তম স্বাধীনতা দিবস আমাদের কাছে আত্মমর্যাদা, আত্মত্যাগ ও জাতীয় চেতনার পুনর্জাগরণের দিন। অসংখ্য স্বাধীনতা সংগ্রামীর ত্যাগ ও আত্মবলিদানের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতার মর্যাদা রক্ষা করা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব।” তিনি আরও বলেন, “দেশপ্রেম যেন শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট দিনের আবেগে সীমাবদ্ধ না থাকে। দেশের প্রতি দায়িত্ব পালন, সমাজের মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং জাতীয় ঐক্য ও অখণ্ডতা রক্ষার মাধ্যমে প্রতিদিন দেশপ্রেমের প্রকাশ ঘটাতে হবে। নতুন প্রজন্মকে ভারতের ইতিহাস ও স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে পরিচিত করানোও আমাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।” কেন্দ্রীয় সভাপতির বক্তব্যে আরও উঠে আসে জাতীয় ঐক্য ও সামাজিক সম্প্রীতির প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, দেশের শক্তি তার ঐক্যের মধ্যে নিহিত। বিভিন্ন মত ও বৈচিত্র্যের মধ্যেও ভারতীয় হিসেবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও দায়িত্ববোধ বজায় রাখা প্রয়োজন। স্বাধীনতার ৮০তম বছরে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে দায়িত্বশীল নাগরিকত্বের চেতনা আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে পতাকা উত্তোলন নয়, বরং স্বাধীনতার ইতিহাস ও তার মূল্যবোধকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই ছিল এবারের কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য। সংগঠনের সদস্যদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ, যুবসমাজ এবং শিশুদেরও বিভিন্ন কর্মসূচিতে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়। নদীয়া উত্তর সাংগঠনিক জেলার নাজিরপুরেও স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্মরণ এবং দেশাত্মবোধক বক্তব্যের মাধ্যমে দিনটি পালন করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা স্বাধীনতার ইতিহাস তুলে ধরার পাশাপাশি দেশের প্রতি নাগরিকদের দায়িত্ব ও কর্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। সংগঠনের নেতৃত্বের বক্তব্য, স্বাধীনতা দিবসের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলি মানুষের মধ্যে দেশপ্রেম ও জাতীয় দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তোলার অন্যতম মাধ্যম। তাই আগামী দিনেও বিভিন্ন সামাজিক ও জাতীয় কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে দেশ, সমাজ ও সংস্কৃতির প্রতি দায়িত্বশীলতার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে আয়োজিত কর্মসূচির মধ্য দিয়ে হিন্দু জনজাগৃতি মহাসভার সদস্যরা স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং জাতীয় পতাকার মর্যাদা রক্ষার সংকল্প গ্রহণ করেন। দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ ও জাতীয় চেতনার বার্তা সামনে রেখে ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের এই আয়োজন সংগঠনের বিভিন্ন স্তরে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। জাতীয় ঐক্য, সামাজিক দায়িত্ব ও দেশের প্রতি কর্তব্য পালনের আহ্বানের মধ্য দিয়ে রাজ্যজুড়ে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন সম্পন্ন হয়।