চিত্র: সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে যখন উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি, ঠিক তখনই ভরতপুরের আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীরের একটি কথিত ভিডিয়ো ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিয়ো-তে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্ষমতাচ্যুত করতে বিজেপির সঙ্গে হাজার কোটি টাকার গোপন চুক্তির বিস্ফোরক দাবি করতে শোনা গিয়েছে তাঁকে। যদিও ওই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি বাংলা জাগো টি ভি, তবে রাজনৈতিক মহলে এর প্রভাব পড়েছে সুদূরপ্রসারী।
ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োর বয়ান অনুযায়ী, হুমায়ুন কবীর এক বিজেপি নেতার সঙ্গে কথোপকথনে স্বীকার করেছেন যে, মমতাকে হারাতে তিনি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। ভিডিয়োতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, শুভেন্দু অধিকারী তাঁকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন এবং খোদ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকেই তাঁকে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের সঙ্গে সমন্বয় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ রয়েছে বলে ওই ভিডিয়োতে ইঙ্গিত মিলেছে।
ভিডিয়োর সবথেকে বিতর্কিত অংশটি হলো ভোটের অঙ্ক নিয়ে। সেখানে হুমায়ুন দাবি করছেন, রাজ্যে বিজেপি এককভাবে ক্ষমতায় আসার মতো আসন পাবে না জেনেও মুসলিম ভোটব্যাঙ্কে ভাঙন ধরানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। তাঁর মতে, মুসলিমরা তৃণমূলের হাত ছেড়ে দিলে দোদুল্যমান হিন্দু ভোটাররাও বিজেপির দিকে ঝুঁকবে। এই লক্ষ্যপূরণে ৭০-৮০টি মুসলিম অধ্যুষিত আসনে লড়ার পরিকল্পনা করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, প্রতিটি কেন্দ্রে ৩-৪ কোটি টাকা করে মোট হাজার কোটি টাকার সংস্থান থাকলে তিনি সংখ্যালঘু ভোটকে তৃণমূলের থেকে সরিয়ে আনতে পারবেন।
ভোটের পর সম্ভাব্য সমীকরণ নিয়েও ওই ভিডিয়োতে নিজের পরিকল্পনা জানিয়েছেন হুমায়ুন। তাঁর দাবি, এই লক্ষ্যপূরণ করতে পারলে বিজেপি তাঁকে উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এমনকি কোনও দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে কিংমেকার হিসেবে তিনি বিজেপিকেই সমর্থন করবেন বলে জানিয়েছেন। বিতর্কিত বাবরি ইস্যুকে হাতিয়ার করে মানুষের আবেগ কাজে লাগিয়ে নিজের জয় নিশ্চিত করার কৌশলও তাঁকে ভিডিয়োতে আলোচনা করতে শোনা যায়। তৃণমূল কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরেই হুমায়ুনকে বিজেপির ঘরোয়া লোক বলে কটাক্ষ করে আসছিল, এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর সেই অভিযোগ আরও জোরালো হল। তবে এই ভিডিয়োর সত্যতা নিয়ে রাজনৈতিক শিবিরে এখন চাপানউতোর তুঙ্গে রয়েছে।