চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: ভোটের প্রচার শেষ হতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি, ঠিক তার আগেই মুর্শিদাবাদ থেকে পশ্চিম বর্ধমান, ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’-র দুর্গে বড়সড় ধস নামাল তৃণমূল কংগ্রেস। প্রথম দফার মহারণের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে কার্যত নিঃস্ব হয়ে পড়লেন হুমায়ুন কবীর। পশ্চিম বর্ধমান জেলার ৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪ জনই একসঙ্গে দল ছেড়ে যোগ দিলেন জোড়াফুলে। শুধু তাই নয়, তালিকায় রয়েছেন মুর্শিদাবাদের খড়গ্রামের প্রার্থীও। ভোটের মুখে হুমায়ুন কবীরের দলের এই গণ-ইস্তফা এবং দলবদল রাজ্য রাজনীতিতে সবথেকে বড় ‘ধাক্কা’ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
মঙ্গলবার পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃণমূলের সভাপতি তথা পাণ্ডবেশ্বরের প্রার্থী নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর হাত ধরে এই মেগা দলবদল সম্পন্ন হয়। দলত্যাগী প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন, রানিগঞ্জের রাহুল ঘোষ, দুর্গাপুর পূর্বের রুবিনা বেগম, বারাবনির অদ্বৈত দাস এবং পাণ্ডবেশ্বরের জুবেদ দাস। এছাড়াও খড়গ্রামের প্রার্থী যাদব দাসও এদিন তৃণমূলে শামিল হন। ভোটের মাত্র দু’দিন আগে কেন এই নাটকীয় দলবদল? এর পেছনে উঠে এসেছে হুমায়ুন কবীরের এক ‘বিস্ফোরক’ ভাইরাল ভিডিও এবং বাবরি মসজিদ গড়া নিয়ে করা তাঁর প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ।
তৃণমূলের পতাকা হাতে নিয়ে রুবিনা বেগম ও রাহুল ঘোষরা বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে বলেন, “হুমায়ুন কবীর বাবরি মসজিদ করবেন বলে প্রচার করে মানুষের আবেগ নিয়ে খেলেছিলেন। কিন্তু ইদানীং তাঁর একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে যেখানে দেখা যাচ্ছে, তৃণমূলকে হারাতে বিজেপির সঙ্গে হাজার কোটি টাকার ডিল করেছেন তিনি। এমন একজন নেতার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তাই আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের শরিক হতে দল ছাড়লাম।” তাঁদের দাবি, সংখ্যালঘু ভোট কাটতে হুমায়ুন দল গড়লেও সাধারণ মানুষ বুঝে গিয়েছেন যে একমাত্র মমতাই প্রকৃত উন্নয়ন করেন।
অন্যদিকে, এই দলবদলকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে ঘাসফুল শিবির। নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেন, “মহিলা ও সংখ্যালঘু ভোট কাটতে বিভিন্ন জায়গায় ডামি প্রার্থী দিয়েছিল হুমায়ুনের দল। কিন্তু মানুষ আজ সব বুঝতে পারছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত শক্ত করতেই চারজন প্রার্থী আজ তৃণমূলে এলেন। এবার তাঁরা আমাদের প্রার্থীদের হয়েই কোমর বেঁধে প্রচারে নামবেন।” ভোটের প্রচার শেষ হওয়ার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে হুমায়ুন কবীরের বাহিনীর এই ‘ঘরওয়াপসি’ পশ্চিম বর্ধমানের ভোটের সমীকরণ পুরোপুরি বদলে দিল বলেই মনে করা হচ্ছে।