ad
ad

Breaking News

Bargabhima Temple

প্রাচীন তাম্রলিপ্তের গর্ব মা বর্গভীমা, মিশে আছে বৌদ্ধ স্থাপত্য ও হিন্দু সংস্কৃতির ধারা

প্রাচীন সময় তমলুক বা তাম্রলিপ্ত এক সুপ্রসিদ্ধ বন্দরনগরী ছিল। সমুদ্র তীরবর্তী তমলুকের আরেক নাম ছিল বেলাকুল।

history-of-bargabhima-temple-tamluk-ancient-tamralipta

চিত্র: সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: রূপনারায়ণ নদের তীরে অবস্থিত তমলুক হল পূর্ব মেদিনীপুরের অন্যতম প্রাচীন জনপদ। ইতিহাস ঘাঁটলে তমলুকের অনেক নাম দেখা যায়, যেমন, তাম্রলিপ্ত, তাম্রলিপ্তি, তমোলিপ্তি, দামলিপ্তি, বিষ্ণুগৃহ, বেলাকুল, বিভাসক বা বিভাস (Bargabhima Temple)।

মহাভারতে উল্লেখ মেলে প্রাচীন তাম্রলিপ্ত রাজ্যর। এখানে তাম্রধ্বজ রাজার রাজধানী ছিল। বহুকালের প্রাচীন জনপদ তাম্রলিপ্তর উল্লেখ মেলে বৌদ্ধযুগের বহু গ্রন্থতেও। প্রাচীন সময় তমলুক বা তাম্রলিপ্ত এক সুপ্রসিদ্ধ বন্দরনগরী ছিল। সমুদ্র তীরবর্তী তমলুকের আরেক নাম ছিল বেলাকুল।

আধুনিক সময়ও ঐতিহাসিক তমলুকের মধ্যমণি মা বর্গভীমা। কয়েক হাজার বছর ধরে আদ্যাশক্তি মহামায়া রূপে দেবী বর্গভীমার আরাধনা চলে আসছে। মতান্তরে তিনি ভীমরূপা বা ভৈরব কপালী নামে পরিচিত। শাক্ত দেবী বর্গভীমার মন্দির এক প্রাচীন শিল্পকীর্তি। অপূর্ব কারুকাজ দেখা যায়। বাঙালি, বৌদ্ধ ও ওড়িশি স্থাপত্যর আদলে গড়া মন্দিরের দেউলের উচ্চতা প্রায় ৬০ ফুট। মন্দিরের দেওয়ালে টেরাকোটার অপূর্ব কারুকাজ দেখা যায়। অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন, সম্রাট অশোক তাম্রলিপ্তে যে বৌদ্ধ স্তূপ নির্মাণ করেন পালযুগে তার ওপরই মন্দির নির্মাণ করা হয়েছে। সম্ভবত, প্রথমে এটি ছিল বৌদ্ধদের প্রার্থনা ভবন। পরে হিন্দু মন্দিরে রূপান্তরিত হয়। বিশাল মন্দির বড়ো দেউল, জগমোহন, নাটমন্দির ও যজ্ঞমন্দির নামে বিভক্ত। বড়ো দেউলে দেবী বর্গভীমার অধিষ্ঠান। একখণ্ড পাথর কুঁদে নির্মিত দেবী মূর্তি। মন্দিরে প্রাচীন হিন্দু স্থাপত্যর নিদর্শনের পাশাপাশি আছে বৌদ্ধ স্থাপত্যর প্রভাব দেখা যায় (Bargabhima Temple)।

ধর্ম, অর্থ, কাম ও মোক্ষ নামে ৪ বর্গ দান করা হত বলে মায়ের নাম বর্গভীমা। নীলতন্ত্র মতে মায়ের আরাধনা করা হয় এখানে। বহুদূর থেকে মন্দিরের সুউচ্চ চূড়া দেখা যায়। জনশ্রুতি স্বয়ং বিশ্বকর্মা নাকি বর্গভীমা মন্দির তৈরি করেছেন। মধ্য যুগে বাংলায় ইসলামিক আক্রমণের পর পুরনো মন্দির ধ্বংস হয়ে যায়। বর্তমান মন্দির প্রাচীন মন্দিরের ধ্বংসাবশেষের ওপর নির্মিত। বর্গভীমা মন্দিরকে ৫১ পীঠের এক পীঠ বলে মনে করা হয়। মনে করা হয়, এখানে সতীর বাম গোড়ালির অংশ পড়েছিল। এখানে দেবীর ভৈরব হলেন কপালী। স্থানীয় বাসিন্দারা বর্গভীমা মন্দিরের নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে অন্য কোনও দেবদেবীর বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা বা পুজো করেন না (Bargabhima Temple)।