ad
ad

Breaking News

Bhadreswar

পুজো দেন হিন্দুরা, প্রার্থনা করেন মুসলিমরা! ভদ্রেশ্বরের পীর মাজারে সম্প্রীতির এক অন্য ছবি

মানিক সাহ পীর বাবা ও ভদ্রেশ্বর পৌরসভার ভাগার এলাকায় করিম সাহের মাজার রয়েছে।

চিত্র : নিজস্ব

Bangla Jago Desk: রাকেশ চক্রবর্তী, হুগলি:   বিজেপি বলেছে হিন্দু হিন্দু ভাইভাই। তৃনমূল বলছে হিন্দু মুসলিম ভাই ভাই। হিন্দু ভোট একজোট করতে কৌশলী বিজেপির। আবার ধর্মের নামে বিভাজনের রাজনীতির অভিযোগ তুলে সরব তৃনমূল। পোস্টার ব্যানার দেওয়াল লিখনে যখন ধর্মের নামে ভোটের তরজা তুঙ্গে। সেই সময় ভদ্রেশ্বরে ব্যাতিক্রমি ছবি।

জাতপাত ভুলে দীর্ঘ দিন ধরেই সৈয়দ সাহ পীরের মাজার দায়িত্বে রয়েছেন পালপাড়ার দাস পরিবার। মাজারের দুবেলা মোমবাতি ধুপ দিয়ে পুজো করেন ওই পরিবারের সদস্যরা। মাজার নয় যেন হিন্দু কোনো দেবালয়। হিন্দু মুসলিম ঐক্যের দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছেন তারা।

মানিক সাহ পীর বাবা ও ভদ্রেশ্বর পৌরসভার ভাগার এলাকায় করিম সাহের মাজার রয়েছে। মাজার সংস্কারে আর্থিক সাহায্য থেকে দেখভাল করা সবই করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই অঞ্চল গুলিতে মূলত হিন্দু সম্প্রদায়ের বাস। একজন বয়স্ক মৌলবী মাজারে এসে পরিষ্কার করেন, চাদর পাল্টে যান। কিন্তু মাজার দেখাভাল থেকে গেটের চাবি সবই থাকে হিন্দু পরিবারে কাছে।

ভদ্রেশ্বর পৌরসভা এলাকায় কয়েকটি জুটমিল রয়েছে। সেখানে কাজের সূত্রে বহু বছর ধরে বিভিন্ন সম্প্রদায় ও ভাষার মানুষ বাসবাস করেন। ভদ্রেশ্বর পালপাড়া ,হিন্দুস্তান পার্কের জমি জায়গায় মুসলিমদের অধীনে ছিল। সেই সময় একাধিক পীর মাজার তৈরি হয়। পরবর্তী কালে পূর্ব বঙ্গের মানুষ ও অবাঙালি হিন্দু বিহারী, তেলেগু, ওড়িয়া ভাষীরা বসবাস শুরু করেন।

তেমনই ১৯৬৭ সালে ভদ্রেশ্বর পালপাড়ায় শ্রীধাম চন্দ্র দাস এক মুসলিম পরিবারের কাছ থেকে জায়গা কিনেছিলেন। সেই সময় থেকে সৈয়দ সাহ পীরের মাজারের দেখভাল দাস পরিবারই পালন করে আসছে।আগে মাটির থাকলেও পরে পাকা হয় মাজার। সবেরাতের সময় অনুষ্ঠান হয়।

দাস পরিবারের এক গৃহবধূ শুক্লা দাস জানান,তার শশুর মাজার সমেত এক মুসলিম মানুষের কাছে এই জমি কিনে ছিলেন।সেই থেকে শ্বশুর পুজো করেন। উনি মারা যাওয়ার পর গোটা পরিবার এই পীরের সেবা করে। প্রতিবছর ২৬ শে জানুয়ারি মুসলিম মানুষজন আসেন প্রার্থনা করতে,চাদর দিতে। এখানে হিন্দু মুসলিম ভাগাভাগি নেই। জাতিধর্ম নির্বিশেষে সকলেই এক।

মৌলবী মহম্মদ সেলিম বলেন, এখানে তিনটি মাজার আছে সেখানে অনুষ্ঠান হয়। আমারা দেখাশোনা করি। আগে পুরোটাই জঙ্গল ছিল। সেই সময় পীরেরা থাকত। তারা মারা গেলে কবর দেওয়ার পর মাজার হয়। এক সময় এখানে হিন্দুস্তান কারখানা হয়েছিল। কিন্তু তা বন্ধ হয়ে যাবার পর জায়গা জমি বিক্রি হয়ে যায়। লোকজন বসবাস শুরু করে। সকলে মিলে এই মাজার দেখাশোনা করি। এখানে সবাই মিলে মাজারে উৎসব পালন করা হয়।

ভদ্রেশ্বর পৌরসভার চেয়ারম্যান প্রলয় চক্রবর্তী বলেন, “সমস্ত ধর্মের মানুষ এখানে একত্রিত হয়ে বাস করেন। কিছু মানুষ আছে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করে। কিন্তু ভদ্রেশ্বরে সেরকম নেই। আমরা শান্তিতে এক সঙ্গে থাকতে চাই। মাজার গুলো সকলে মিলে দেখা শোনা করে। মুখে মুখে ভাই ভাই বলে কিছু হবে না। সকলে সকলের পাশে থাকতে হবে। ধর্ম কোনদিন শেখায় না ভাগ করতে।”