ad
ad

Breaking News

Hill Healthcare

দুর্গম পাহাড়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বাস্থ্যসেবার নজির, বাঘমুন্ডির দুই স্বাস্থ্যকর্মীর মানবিক লড়াই

তার পর চার থেকে পাঁচ কিলোমিটার দুর্গম পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথে হেঁটে গ্রামে পৌঁছাতে হয়।

Hill Healthcare Health Workers Brave Remote Purulia Hills

চিত্রঃ নিজস্ব

Bangla Jago Desk: পুরুলিয়া জেলার বাঘমুন্ডি ব্লকের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন করেং উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের দুই স্বাস্থ্যকর্মী। অযোধ্যা পাহাড়ের প্রত্যন্ত জিলিং সেরেং গ্রামে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দিতে শীত, বর্ষা ও গ্রীষ্ম—সব ঋতুতেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রায় দেড় বছর ধরে কাজ করে চলেছেন তাঁরা। জিলিং সেরেং গ্রামটি পাহাড়ঘেরা ও যোগাযোগব্যবস্থার দিক থেকে অত্যন্ত পিছিয়ে। গ্রামের মানুষ যাতে ন্যূনতম স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ বলে জানান বুড়দা ২ নম্বর সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কমিউনিটি হেলথ অফিসার সীমা মল্লিক। তিনি বলেন, “খৈরাবেড়া ড্যাম পর্যন্ত গাড়িতে যাওয়া যায়।

তার পর চার থেকে পাঁচ কিলোমিটার দুর্গম পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথে হেঁটে গ্রামে পৌঁছাতে হয়। বিকল্প পাকা রাস্তা থাকলেও সেটি প্রায় ১৫ কিলোমিটার ঘুরপথ।” এই কঠিন যাত্রাপথ পেরিয়ে তাঁরা নিয়মিত প্রাথমিক চিকিৎসা, গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, শিশুদের টিকাকরণ ও স্বাস্থ্য সচেতনতার কাজ করে চলেছেন। স্থানীয়দের মতে, এই পরিষেবার ফলে বহু মানুষ সময়মতো চিকিৎসা পাচ্ছেন।

গ্রামবাসীদের দাবি, জিলিং সেরেং সহ আশপাশের গ্রামগুলির সঙ্গে যদি পাকা রাস্তার যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে ওঠে, তবে বুড়দা বাজার, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ব্যাঙ্কে যাতায়াত অনেক সহজ হবে। বাঙ্কা মুর্মু ও করমচাঁদ মুর্মু জানান, “স্বাস্থ্যকর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমেই আজ আমাদের গ্রামে স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছেছে। আমরা তাঁদের পাশে আছি।”
দুর্গম পাহাড়ে এই মানবিক লড়াই আজ অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা।