চিত্র: নিজস্ব
নয়ন কুইরী, পুরুলিয়া: পরাধীন ভারতে জন্মগ্রহণ করেও স্বাধীনতার এত বছর পর আজও স্বাধীনতার পূর্ণ স্বাদ বুঝে উঠতে পারলেন না ৮৪ বছরের সুন্দরী সহিষ। আড়ষা থানার সালোডহর গ্রামের এই বৃদ্ধার কণ্ঠে ধরা পড়ল দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও বেদনা। নো-ম্যাপিং ভোটারদের শুনানি পর্বে উপস্থিত হতে গিয়ে এমনই এক হৃদয়বিদারক ছবি উঠে এল আড়ষা ব্লকে (Hearing Harassment)।
বয়সের ভার, শারীরিক দুর্বলতা এবং চলাফেরার অসুবিধা সত্ত্বেও ভোটার তালিকার ত্রুটি সংশোধনের জন্য তাঁকে স্বশরীরে হাজিরা দিতে হয়েছে শুনানিতে। দীর্ঘদিন নিয়মিত ভোট দিয়ে এলেও নিজের নাম নিয়ে গলদের অভিযোগ শুনে বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ বৃদ্ধা। শুনানিস্থলে দাঁড়িয়ে সুন্দরী সহিষ আক্ষেপের সুরে বলেন, ‘আমি এতদিন ধরে নিয়মিত ভোট দিয়ে এসেছি। তবু আজ দেখি আমার নামেই নাকি গলদ। এই বয়সে দূর থেকে এখানে আসতে হল। এ কেমন নিয়ম (Hearing Harassment)?’
বয়স্ক, বিকলাঙ্গ ও অসুস্থ মানুষের কথা ভেবে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বিকল্প কোনও ব্যবস্থার কথা ভাবা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর কথায়, এভাবে হয়রানি হলে মনে হয়, আমরা যেন আজও পরাধীনই রয়ে গেছি।এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছেন আড়ষা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিস্বরূপ মাঝি। তাঁর মতে,নির্বাচন কমিশন যেমন বয়স্ক ও বিকলাঙ্গদের বাড়ি গিয়ে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করে, তেমনই নো-ম্যাপিং শুনানির ক্ষেত্রেও বাড়ি গিয়ে যাচাই করা যেত (Hearing Harassment)।
তিনি এই সিদ্ধান্তকে অমানবিক বলে আখ্যা দেন এবং বলেন, প্রশাসনের উচিত ছিল আরও মানবিক ও সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিষয়টি দেখা। এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলছে—গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সঠিক ও স্বচ্ছ রাখার পাশাপাশি বয়স্ক ও দুর্বল নাগরিকদের প্রতি মানবিকতা ও সহানুভূতির জায়গা কি আরও জোরদার হওয়া প্রয়োজন নয় (Hearing Harassment)?