চিত্রঃ সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: গঙ্গার তীরে বসে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে কোথা দিয়ে যে সময় কেটে যাবে টেরই পাবেন না। গঙ্গা তীরের হুগলির গুপ্তিপাড়া হল এমনই এক শান্ত নিরিবিলি জনপদ। প্রাচীন জনপদ গুপ্তিপাড়ার নাম জড়িয়ে আছে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোর সঙ্গে। বারোয়ারি দুর্গাপুজোর জন্ম হুগলির গুপ্তিপাড়ায় বলে মনে করা হয়। ১৮২০ সালে ইংরেজি সংবাদপত্র The Friend of India তে গুপ্তিপাড়ার বারোয়ারি দুর্গাপুজোর উল্লেখ রয়েছে। হুগলির গুপ্তিপাড়ার শুধু ধর্মীয় দিক থেকে নয় ঐতিহাসিক ও শৈল্পিক দিক থেকেও গুরুত্ব রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা গুপ্তিপাড়াকে গুপ্ত বৃন্দাবন বলে ডাকেন। কারণ, গুপ্তিপাড়ায় বাংলার নিজস্ব স্থাপত্য রীতি টেরাকোটা ও বৃন্দাবনের ভক্তি শ্রদ্ধা লক্ষ্য করা যায় (Guptipara Hooghly)।
আরও পড়ুনঃ ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যে নতুন অধ্যায়, ট্রাম্পের বার্তায় শুল্ক কমানোর ইঙ্গিত
গুপ্তিপাড়ার বৃন্দাবনচন্দ্র মঠের নির্মাণ ১৭ শতকে শুরু হয়েছিল বলে মনে করা হয়। স্থানীয় বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের মানুষজন চৈতন্য ভাবধারায় অনুপ্রাণিত হয় মঠের নির্মাণ করেন বলে মনে করা হয়। পরে এই মঠই হয়ে উঠেছে গুপ্তিপাড়ার ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। মঠ চত্বরে ৪টি প্রধান মন্দির রয়েছে। জোড়বাংলা শ্রী চৈতন্যদেবের মন্দির, আটচালা শ্রীবৃন্দাবনচন্দ্র মন্দির, এক রত্ন শ্রী রামচন্দ্র মন্দির ও আটচালা শ্রীকৃষ্ণচন্দ্র মন্দির। উঁচু পাঁচিল ঘেরা চতুষ্কোণ আকারের মধ্যে রয়েছে ৪টি মন্দির। প্রতিটি মন্দিরের স্থাপত্য রীতি আলাদা। বেশ কয়েকটি মন্দিরের দেওয়ালে ১৭-১৮ শতকের টেরাকোটা ফলকে রামায়ণ, মহাভারতের কাহিনি, কৃষ্ণলীলা, গ্রামীণ জীবনের ছবি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে (Guptipara Hooghly)।
Bangla Jago fb page: ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যে নতুন অধ্যায়, ট্রাম্পের বার্তায় শুল্ক কমানোর ইঙ্গিত
বৃন্দাবনচন্দ্র মন্দিরে একসঙ্গে পুজো করা হয় শ্রীরাধিকা, শ্রী বৃন্দাবনচন্দ্র, জগন্নাথদেব, সুভদ্রা দেবী ও বলরামদেবকে। বাংলার প্রাচীন রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয় গুপ্তিপাড়ার বৃন্দাবনচন্দ্র মন্দিরেই। রথযাত্রা উৎসবকে ঘিরে মেলা বসে। কীর্তনের আসর বসে। গোটা মঠ চত্বর ভারতীয় পুরাতাত্ত্বিক বিভাগের অধীনে সংরক্ষিত। গুপ্তিপাড়ায় প্রথম যেখানে বারোয়ারি দুর্গাপুজোর আয়োজন করা হয়েছিল সেই জায়গাটাকে বলা হয় বিন্ধ্যবাসিনী বারোয়ারি তলা। বিন্ধ্যবাসিনী রূপে দেবী জগদ্ধাত্রীর পুজো করা হয়ে আসছে। প্রাচীন জগদ্ধাত্রী পুজোর উল্লেখ রয়েছে ইংরেজি সংবাদপত্রেও। বেঙ্গল গ্যাজেটের তথ্য অনুযায়ী ১৭৫৯ সালে বিন্ধ্যবাসিনী মন্দিরে শুরু হয় প্রথম সর্বজনীন জগদ্ধাত্রী পুজো। মন্দিরের গায়ে লেখা আছে ১১৬৬ সন। আর ১৩৪৬ সালে সতীশ চন্দ্র সেন পুজো মণ্ডপটি তৈরি করেছিলেন। গুপ্তিপাড়ায় যেমন আছে দশনামী শৈবসম্প্রদায়ের মঠ তেমনই ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায় এখানে ছিল সংস্কৃত ভাষা শেখার টোলও। গুপ্তিপাড়া হল কবিয়াল ভোলা ময়রা আর নবাব সিরাজউদ্দৌলাহর সেনাপতি মোহনলালের জন্মস্থান। মোগল সাম্রাজ্যের গোড়ার দিকে গুপ্তিপাড়া তন্ত্রবিদ্যার গুপ্ত স্থল হিসাবে পরিচিত ছিল। আরাধনা করা হত দশমহাবিদ্যার।
কীভাবে যাবেন গুপ্তিপাড়ায়
কলকাতা থেকে ট্রেনে হাওড়া-বর্ধমান মেন লাইনে পড়বে গুপ্তিপাড়া স্টেশন। রিকশা বা টোটোয় চেপে ঘোরা যায় দ্রষ্টব্য স্থান। বেড়ানোর আদর্শ সময় শীতকাল বা রথযাত্রার সময় (Guptipara Hooghly)।