চিত্রঃ AI
Bangla Jago Desk: বিয়ের পিঁড়িতে বসার আগে সরকারি শুনানির পিঁড়িতে! মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জ-২ ব্লকের সন্মতিনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা নয়ন শেখের জীবনে শুক্রবারের সকালটা ছিল এমনই এক রোলারকোস্টার রাইড। এসআইআর (SIR) শুনানিকেন্দ্রের বাইরে হাতে নথিপত্র নিয়ে যখন দীর্ঘ লাইন, তখন আচমকাই সেখানে উদয় হলেন এক বর। মাথায় টোপর, পরনে ধুতি-পাঞ্জাবি আর গলায় মালা— খাস বরবেশে যুবককে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে উপস্থিত সকলের চক্ষু চড়কগাছ! ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজনের প্রথমে মনে হয়েছিল, বোধহয় ভুল করে বিয়ের বদলে সরকারি দফতরে চলে এসেছেন বরযাত্রীরা। কিন্তু আসল গল্প ছিল একেবারেই আলাদা। শুক্রবারই ছিল নয়নের বিয়ে। অথচ সেই শুভ দিনেই তাঁর কাছে হাজির হওয়ার সরকারি নোটিস এসে পৌঁছায়। একদিকে বিয়ের লগ্ন, অন্যদিকে নথিপত্রের শুনানি— এমন মহাবিপাকে পড়ে নয়ন ঠিক করলেন, দুটোই সামলাবেন। যেমন ভাবা তেমন কাজ! সানাইয়ের সুর বাজার আগেই বরযাত্রীদের দলবল নিয়ে তিনি সোজা হাজির হলেন শুনানিকেন্দ্রে।
শুনানি চলাকালীন সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী আখরুজ্জামান। জনৈক ‘বর’কে নথিপত্র হাতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে মন্ত্রীমশাইও কিছুটা ভিরমি খান। তবে আসল ঘটনা জানার পর তিনি আর দেরি করেননি। নয়নের বিয়ের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং নিজের অধিকার নিয়ে সচেতনতা দেখে মন্ত্রী নিজে তৎপর হয়ে ওঠেন। তাঁর নির্দেশেই দ্রুত সারা হয় নয়নের সরকারি শুনানি।
মন্ত্রী আখরুজ্জামান হাসিমুখে জানান যে, বিয়ের সাজে কেউ শুনানিতে আসছেন এমন দৃশ্য সচরাচর দেখা যায় না। নয়ন শেখ যাতে ঠিক সময়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে পারেন, তার জন্য প্রশাসনিক তৎপরতায় ঝটপট কাজ মিটিয়ে তাঁকে ‘ছুটি’ দেওয়া হয়। সব ঝক্কি সামলে অবশেষে হাসি মুখে শুনানিকেন্দ্র থেকে কনের বাড়ির দিকে রওনা দেন নয়ন। স্থানীয়রা রসিকতা করে বলছেন, এমন লড়াকু বরের কথা অন্তত মুর্শিদাবাদ অনেকদিন মনে রাখবে।