ad
ad

Breaking News

Gangasagar IAS Aspirant

Gangasagar IAS Aspirant: আর্থিক অসচ্ছলতা, শারীরিক সমস্যা নিয়েও গঙ্গাসাগরের ‘বাঘিনী’ রাজশ্রী হতে চান আইএএস

Bangla Jago Exclusive গঙ্গাসাগরের 'বাঘিনী' রাজশ্রী হতে চান আইএএস

Gangasagar IAS Aspirant Rajshree Bharati

চিত্রঃ নিজস্ব

জয় চক্রবর্তী: আইপিএস অফিসার মনোজ কুমার শর্মা । ২০২৩ সালের বায়োগ্রাফীক্যাল মুভি “টুয়েলভ ফেল” এর পর সারা ভারত তাকে চেনে। বারবার জীবনে ধাক্কা খাওয়ার পর কিভাবে আইপিএস হওয়ার সেই অদম্য ইচ্ছাকে বাস্তবায়ন করেছিলেন তিনি। তেমনি এক বাস্তব জীবনের ঘটনা গঙ্গাসাগর মেলাতে। শারীরিকভাবে খুব একটা সক্ষম নন তিনি। ছেদ পড়েছে চলতি পড়াশোনায়। তবুও অদম্য ইচ্ছা। আইএএস হওয়ার অদম্য ইচ্ছা। এই কাহিনী, গঙ্গাসাগরের রাজশ্রী ভারতীকে নিয়ে। রাজশ্রী তার আসল মা-বাবার ‘টাইটেল’ ভুলে গিয়েছেন। সাধুবাবার টাইটেল ব্যবহার করেন। ঘটনার শুরুওয়াত হয়েছিল আজ থেকে প্রায় ২২ বছর আগে। সাধক জীবনকে বেছে নিয়ে মহাদেব ভারতী গোটা ভারতবর্ষের বিভিন্ন আধ্যাত্বিক জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। আসল বাড়ি উত্তরপ্রদেশে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে ঘুরতে সন্ন্যাসী মহাদেব ভারতী মহারাষ্ট্রের মুম্বাইতে পৌঁছান। সেখানেই ঘটে যায় তার জীবনের অন্যতম ঘটনা। সাধু বাবার কাছে এসে জীবনের পথ খুঁজতে চান মুম্বাই নিবাসী এক দম্পতি। ‌ তখন সেই দম্পতি জীবনের সবথেকে অমূল্য সম্পদ, তাদের মেয়েকে এই সাধু বাবার কাছে অর্পণ করেন। “ও আমার নিজের মেয়ে নয়। ‌ কিন্তু তার থেকেও অনেক বেশি। ওর বাবা মা মেয়ের সমস্ত দায়িত্ব আমার ওপরে ছেড়ে দিয়েছেন। ‌ ২১ বছর ধরে মেয়েকে আমি মানুষ করছি। ‌ আগামী দিনেও করব” আরো খবর কে জানালেন সন্ন্যাসী মহাদেব ভারতী। যখন রাজশ্রী খুব ছোট ছিল।

তখন থেকেই এই সাধু বাবার কাছে মানুষ হতে শুরু করে সে। সাধু বাবাই তার জীবনের সবকিছু। “খুব ছোট ছিল যখন আমার কোলেই খেলা করত। ওর সমস্ত আবদার আমার কাছে। ‌ আমি ওকে ফেলতে পারিনি। রাজশ্রী ভালো কিছু করুক, এটাই আমার কাছে সবথেকে বড় পাওনা হবে” বলতে বলতে চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল সাধু বাবার। বাবার চোখের জল নিজের গায়ের কাপড় দিয়ে মুছতে মুছতে রাজশ্রী বললেন,”আমার বাবা। আমার মা। আমার সবকিছুই উনি। আমি কলেজে পড়াশোনা শুরু করেছি।” ২০২৩ সালে একটা ঘটনা ঘটে আসামের কামাখ্যা মন্দিরের সামনে। “আমি তো ভারতের বিভিন্ন আধ্যাত্মিক জায়গায় ঘুরে বেড়াই। মেয়ে আমার সঙ্গেই থাকে বেশিরভাগ সময়। কামাক্ষায় তখন অম্বুবাচী মেলা। খুব ভিড়। ‌ কিন্তু একটা অদ্ভুত ঘটনায় আমার মেয়ে দুর্ঘটনার মধ্যে পড়ে” বললেন সাধু বাবা। তিনি আরো বললেন,”তারপরেই ওর শারীরিক পরিস্থিতি খারাপ হয়। এতদিন পর্যন্ত সাধারণ মানুষের মতোই অসুবিধে বিহীন ভাবে ছিল। কিন্তু কামাখ্যার ঘটনার পরে ওর প্রচন্ড শারীরিক সমস্যা তৈরি হয়। দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে ভর্তি ছিল অনেকদিন।” গাড়ির ধাক্কায় দুর্ঘটনার পর রাজশ্রীর গলায় পাইপ বসাতে হয়। তারপর থেকে প্রায় অথর্ব হয়ে যায় রাজশ্রী। এখন তার নিত্য দিনের সঙ্গী হুইল চেয়ার। ভালো করে কথা বলতে পারছেন না এখন। তবুও বাঘিনীর গলায় অদম্য ইচ্ছার তেজ। “পড়াশোনায় আমার জীবন। আমার আর কিছু ভালো লাগে না। পড়াশোনা করে আইএএস হতে চাই” বললেন রাজশ্রী। সাধু বাবা সায় দিয়ে বললেন,”ভগবানের ইচ্ছা যদি হয় সেটাই হবে। ঈশ্বর আমার কাছে ওকে পাঠিয়েছেন। সবাইকে ঈশ্বর তার দায়িত্ব ভাগ করে দেন। এই মেয়েকে মানুষ করার দায়িত্ব দিয়েছেন ঈশ্বর। সেই নির্দেশ আমি পালন করছি।” প্রতি বছর গঙ্গাসাগর মেলার সময় সাধু বাবার আগমন হয় কপিল মুনির আশ্রমের পার্শ্ববর্তী সাধুদের গুমটিতে। “আমি কামাখ্যার ঘটনার পর থেকে এই গঙ্গাসাগরেই রয়েছি। না হলে মেয়েকে দেখবে কে? আমি তো আর ওকে ছেড়ে চলে যেতে পারি না” জানালেন সন্ন্যাসী মহাদেব ভারতী।

কিন্তু মেয়েকে বড় করা তোর মুখের কথা নয়। অর্থের বিষয় রয়েছে। “সকালবেলা আমি পেপার দিতে যাই। এখানে ভক্তরা আসেন, তারা আমাকে কিছু দাম ধ্যান করেন। স্থানীয় ক্লাব থেকেও সাহায্য করে। ‌ সবকিছু নিয়ে কোন রকমে চলে যাচ্ছে” জানালেন সাধু বাবা। চন্ডিগড় এ নিয়ে যেতে হয় মাঝেমধ্যেই মেয়েকে। সেখানে চিকিৎসা চলছে। আগামী ২৬ শে মার্চ আবার থেকেই নিয়ে যেতে হবে চন্ডিগড়ে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে কিছু চাইবেন? “উনি অনেক কাজে ব্যস্ত। খুব আধ্যাত্মিক মানুষ এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আমাকে কোন সাহায্য করার দরকার নেই। আমার মেয়ে সব। উনি মনে করলে আমার মেয়ের জন্য কিছু করতেই পারেন। কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরমাত্মার নির্দেশেই কাজ করেন। ওনাকে আমি শ্রদ্ধা করি” মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি নমস্কার জানিয়ে বার্তা দিলেন সাধু বাবা মহাদেব ভারতী। রাজশ্রী বলে উঠলেন, “আমি পড়াশোনা করতে চাই। আইএএস হতে চাই।”