চিত্র : প্রতীকী
AK Bangla Desk: স্নানের দৃশ্য গোপনে মোবাইলে বন্দি করে ক্রমাগত ব্ল্যাকমেল! এরপর সেই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে এক বিশেষভাবে সক্ষম অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে পৈশাচিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠল প্রতিবেশী যুবকের বিরুদ্ধে। কেবল ভয় দেখানোই নয়, ওই পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বাকে ফাঁকা জায়গায় ডেকে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণও করা হয় বলে অভিযোগ। চাঞ্চল্যকর ও মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর থানার সুকদেবপুর এলাকায়। ঘটনার লিখিত অভিযোগ পেতেই তৎপরতার সঙ্গে অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতের নাম রাজা দাস (২৩)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা মহিলা এবং তাঁর স্বামী, দু’জনেই বিশেষভাবে সক্ষম। তাঁদের অসহায়তার সুযোগ নিয়েই এই জঘন্য অপরাধ ঘটিয়ে আসছিল প্রতিবেশী যুবক রাজা দাস। বেশ কিছুদিন আগে ওই মহিলা যখন স্নান করছিলেন, তখন গোপনে মোবাইলে তাঁর আপত্তিকর ভিডিও রেকর্ড করে নেয় ২৩ বছরের ওই যুবক। এর পর থেকেই শুরু হয় লাগাতার মানসিকভাবে হেনস্থা ও ব্ল্যাকমেল করা। ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ওই মহিলাকে মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য করা হত।
অভিযোগ, দিনকয়েক আগে গভীর রাতে ভীতি প্রদর্শন করে ওই অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যায় রাজা। এরপর নির্জন একটি জায়গায় নিয়ে গিয়ে তাঁর ওপর শারীরিক নির্যাতন ও ধর্ষণ চালানো হয় বলে নিগৃহীতার স্বামী গঙ্গারামপুর থানায় দায়ের করা অভিযোগে উল্লেখ করেছেন। যুবকের অত্যাচার দিন দিন মাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে পুরো বিষয়টি স্বামীকে খুলে বলেন ওই মহিলা। রবিবার রাতে গঙ্গারামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ জানান নিগৃহীতার স্বামী।
অভিযোগ পাওয়ার পরপরই অভিযানে নেমে রাতেই অভিযুক্ত রাজা দাসকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সোমবার ধৃতকে গঙ্গারামপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এদিকে, নিগৃহীতা মহিলা পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় তাঁর শারীরিক অবস্থা ও গর্ভস্থ সন্তানের স্বাস্থ্য খতিয়ে দেখতে চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেছেন। অভিযুক্তের কঠোরতম শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নির্যাতিতা দম্পতি ও এলাকার বাসিন্দারা।