ad
ad

Breaking News

Gangasagar

গঙ্গাসাগরে গঙ্গাআরতি, আলোর রোশনাইয়ে সেজেছে সাগরদ্বীপ

এ বছর কুম্ভমেলা না থাকায় গঙ্গাসাগর মেলায় পুণ্যার্থীর সংখ্যা গত বছরের চাইতে আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন প্রশাসনের কর্তারা।

ganga-sagar-mela-2026-kapil-muni-arati

চিত্রঃ নিজস্ব

Bangla Jago Desk: সৌরভ নস্কর, গঙ্গাসাগর: সমুদ্র তটে জনজোয়ার। কপিল মুনির আশ্রমে পূণ্যার্থীদের ঢল। সাধুদের আশীর্বাদ নিতে হাজির হচ্ছেন হাজার হাজার ভক্ত।  মকর সংক্রান্তির পুণ্যলগ্ন যত এগিয়ে আসছে, ততই সেজে উঠছে গঙ্গাসাগর মেলা প্রাঙ্গণ। কপিল মুনির আশ্রমের সন্নিকটে, দুই নম্বর স্নানঘাটের পাশে রবিবার থেকে শুরু হল বিশেষ গঙ্গাসাগর আরতি। বারাণসী, অযোধ্যার চেয়ে কোনও অংশে কম নয় এই অনুষ্ঠান।এদিন আরতি দেখতে হাজার হাজার পূণ্যার্থীরা হাজির ছিলেন গঙ্গা ঘাটে। মেলার বাড়তি আকর্ষণ সাগরতট ও মন্দির চত্বরে বিশেষ আলোকসজ্জা। তিন দিন ব্যাপী গঙ্গা আরতি করা হবে।১১, ১২ ও ১৩ জানুয়ারি—এই তিন দিনব্যাপী চলবে এই বর্ণাঢ্য আয়োজন।বারাণসীর আদলে সাজিয়ে তোলা হয়েছে সাগরতট। প্রদীপের আলো, ধুনুচির ধোঁয়া ও শঙ্খধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। সন্ধ্যা নামতেই কয়েক হাজার পুণ্যার্থী ভিড় জমান এই মাহেন্দ্রক্ষণ প্রত্যক্ষ করতে। পুরোহিতদের মন্ত্রোচ্চারণ আর সাগরের ঢেউয়ের গর্জন মিলেমিশে সৃষ্টি করে এক অনন্য, মায়াবী পরিবেশ।

এদিনের সাগর আরতিতে উপস্থিত ছিলেন কপিল মুনির আশ্রমের মহারাজ, জেলাশাসক অরবিন্দু কুমার মিনা, সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা, মথুরাপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ বাপি হালদার, সুন্দরবন পুলিশ জেলার এসপি কোটেশ্বর রাও, জিবিডি-র চেয়ারম্যান সীমান্ত কুমার মালি-সহ একাধিক প্রশাসনিক আধিকারিক। প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, পুণ্যার্থীদের জন্য  প্রতি বছরের মতো এবারও এই বিশেষ সাগর আরতির আয়োজন করা হয়েছে। আরতিকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। এ বছর কুম্ভমেলা না থাকায় গঙ্গাসাগর মেলায় পুণ্যার্থীর সংখ্যা গত বছরের চাইতে আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন প্রশাসনের কর্তারা।

গত ডিসেম্বর মাস থেকে ভিন রাজ্যের পুণ্যার্থীদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে সাগরে। সেইজন্য প্রশাসনের তরফে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থাও। বিশেষত, গঙ্গাসাগর সমুদ্রসৈকতে নজরদারি চালাতে ও দ্রুত উদ্ধারকার্য চালাতে ব্যবহার করা হচ্ছে অত্যাধুনিক ‘ওয়াটার ড্রোন’ বা ‘রেসকিউ ড্রোন’।​প্রশাসন সূত্রে খবর, কপিলমুনির আশ্রম এবং প্রধান স্নানঘাটের নজরদারির জন্য এই বিশেষ ড্রোন মোতায়েন করা হয়েছে। এই ড্রোনের বিশেষত্ব হলো, এটি প্রায় ১০০ কেজি পর্যন্ত ওজন বহন করতে সক্ষম।আগামী ১৪ জানুয়ারি মকর সংক্রান্তির পুণ্য তিথি। সে দিন দুপুর ১টা ১৪ মিনিট থেকে ১৫ই জানুয়ারি দুপুর ১টা ১৪ মিনিট পর্যন্ত পুণ্যস্নানের সময়। এই সময়কালে সমুদ্রে স্নান সেরে কপিলমুনির মন্দিরে পুজো দিয়ে নিজেদের মনস্কামনা জানাতে সারা দেশ থেকে হাজির হন পুণ্যার্থীরা।