চিত্রঃ সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: শীতের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে বাঙালির ঘরে ঘরে শুরু হয়েছে পৌষ-পার্বণের প্রস্তুতি। পিঠেপুলির স্বাদকে আরও মোহনীয় করে তুলতে চাই টাটকা খেজুর গুড়। আর সেই গুড় তৈরির ব্যস্ততা ঘিরেই প্রতি বছরের মতো এ বছরও ঝাড়গ্রামের বিভিন্ন এলাকায় এসে পৌঁছেছেন বাইরের জেলা থেকে আসা শিউলিরা।ভোরের আলো ফুটতেই শুরু হয়ে যায় তাদের দিনের পরিশ্রম। খেজুর গাছে ওঠা, বাঁধা কলসিতে জমা হওয়া রস নামানো— সবই চলে দ্রুততা ও দক্ষতার সঙ্গে। এরপর সেই রস বড় কড়াইতে জ্বাল দিয়ে তৈরি করা হয় টাটকা গরম খেজুর গুড়। ফুটতে থাকা রসের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে। শীতের সকালের হিমেল হাওয়ার সঙ্গে মিশে সেই সুবাস গোটা এলাকায় যেন উৎসবের আমেজ এনে দেয় (Jhargram)।
আরও পড়ুনঃ LandSpace Zhuque: পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট মিশনে ধাক্কা, চিনের জুছে-৩ অবতরণে ব্যর্থ
প্রতিবছর ঝাড়গ্রামের সাঁকরাইলের ধানঘোরি-সহ আশপাশের নানা এলাকায় এই শিউলিরা এসে গুড় তৈরিতে মেতে ওঠেন। তাঁদের কথায়, বছরের অন্য সময়ে রোজগার থাকলেও শীতই মূল উপার্জনের সময়। খেজুর রস থেকে তৈরি এই খাঁটি গুড়ের চাহিদা এখনো চোখে পড়ার মতো। পার্শ্ববর্তী জেলা ও বিভিন্ন গ্রামাঞ্চল থেকে মানুষ ভিড় করেন টাটকা পাটালি, নলেন গুড় কিংবা গরম গুড় কিনতে।এই গুড় দিয়েই তৈরি হয় বিভিন্ন পিঠেপুলি, পায়েস, মিষ্টি ও নানা ঐতিহ্যবাহী রান্না। পৌষ-পার্বণের রসে ভেজা এই সময়কে আরও উপভোগ্য করে তোলে ঝাড়গ্রামের টাটকা খেজুর গুড়ের স্বাদ।শিউলিরা জানান, বছরভর অপেক্ষা করি শীতের জন্য। এই সময়েই আমাদের পরিবারের মুখে হাসি ফোটে। খাঁটি গুড় পেয়ে এলাকার মানুষ খুশি হন— এটাই আমাদের আনন্দ।শীতে ঝাড়গ্রামের আকাশে যখন হালকা মেঘ জমে, ঠিক তখনই খেজুর গুড় তৈরির ধোঁয়া ও তার মিষ্টি গন্ধই যেন শীতের আগমনের আসল বার্তা বয়ে আনে (Jhargram)।
Bangla Jago fb page: https://www.facebook.com/share/17CxRSHVAJ/