চিত্রঃ প্রতীকী
Bangla Jago Desk: বঙ্গে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর এবার পরিবেশ রক্ষা, ধর্মীয় ভাবাবেগ এবং স্বনির্ভরতার মেলবন্ধনে এক অভিনব জনমুখী উদ্যোগের কথা ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। বিভিন্ন মন্দিরে পুজোর পর অবশিষ্ট ফুল ও মালা, যা এতদিন স্রেফ বর্জ্য হিসেবে ফেলে দেওয়া হতো, এবার সেই উচ্ছিষ্ট ফুল পুনর্ব্যবহার করেই তৈরি হবে সুগন্ধী ধূপবাতি। রাজ্যের নারী ও শিশু কল্যাণ এবং সমাজ কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের এই মেগা ঘোষণায় নতুন করে আশার আলো দেখছে বীরভূমের অন্যতম প্রধান সিদ্ধপীঠ তারাপীঠ-সহ জেলার বাকি সতীপীঠগুলি। তারাপীঠ মহাশ্মশান ও মন্দিরে প্রতিদিন দেশ-বিদেশ থেকে হাজার হাজার ভক্তের সমাগম হয়। মা তারার চরণে প্রতিদিন নিবেদিত হয় বিপুল পরিমাণ জবা, গাঁদা-সহ হরেক রকমের ফুল ও মালা। কিন্তু পুজো শেষে সেই বিপুল পরিমাণ ফুল একসময় বর্জ্যে পরিণত হতো। অতীতে এই অবশিষ্ট ফুল ও পুজোর সামগ্রী মন্দির সংলগ্ন দ্বারকা নদীতে ফেলে দেওয়া হতো, যার জেরে নদীর জল মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছিল।
পরবর্তীতে বীরভূম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মল্লারপুরের একটি এনজিও (NGO) সংস্থা এই সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসে। বিগত কয়েক বছর ধরে তারা নিয়মিতভাবে তারাপীঠ থেকে এই উচ্ছিষ্ট ফুল সংগ্রহ করে তা দিয়ে জৈব সার তৈরি করছে। বর্তমানে মন্দির কমিটির পক্ষ থেকেও ওই সংস্থাকে আর্থিক সাহায্য করা হয়। তবে এবার সারের পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগে ধূপবাতি তৈরির পরিকল্পনা যোগ হওয়ায় এই ব্যবস্থার পরিধি আরও বড় হতে চলেছে। শুধু তারাপীঠই নয়, বীরভূমের বিখ্যাত পাঁচ সতীপীঠ তথা— নলহাটির নলাটেশ্বরী মন্দির, সাঁইথিয়ার নন্দীকেশ্বরী মন্দির, লাভপুরের মা ফুল্লরা মন্দির, বোলপুরের কঙ্কালীতলা মন্দির এবং বক্রেশ্বর মন্দির-সহ জেলার ছোট-বড় অসংখ্য মন্দিরে প্রতিদিন যে বিপুল পরিমাণ ফুল বর্জ্য হিসেবে জমা হয়, তার সবটাই এই প্রকল্পের আওতায় আনা হবে। এর ফলে মন্দির চত্বরগুলি যেমন আবর্জনামুক্ত ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকবে, তেমনই পরিবেশবান্ধব মডেল হিসেবে তা রাজ্যে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
এই অভিনব পরিবেশবান্ধব প্রকল্প নিয়ে নারী ও শিশু কল্যাণ এবং সমাজ কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “যে সমস্ত মন্দিরে ফুল ও ফুলের মালা ব্যবহার হয়, সেগুলি অযথা বর্জ্য হিসেবে ফেলে না দিয়ে আমরা সংগ্রহ করব। সেই ফুলগুলি প্রসেসিং করে ধূপবাতি বানানো হবে। প্রাথমিক স্তরে এক একটি সেন্টারে অন্তত ১৫ জন করে স্থানীয় মহিলা কাজ পাবেন। এটা নিয়ে আমার দপ্তর একটি বিশেষ ওয়ার্কশপ তৈরি করবে। আমার দপ্তরের একটি আলাদা ফান্ড রয়েছে, সেখান থেকেই এই ওয়ার্কশপ তৈরির যাবতীয় খরচ বহন করা হবে।” রাজ্য সরকারের এই পরিকল্পনাকে সর্বান্তকরণে স্বাগত জানিয়েছে মন্দির কর্তৃপক্ষও। তারাপীঠ মন্দির কমিটির সদস্য তথা বিজেপি কার্যকর্তা পুলক চট্টোপাধ্যায় জানান, “রাজ্য সরকার এই উদ্যোগ গ্রহণ করলে মন্দির কমিটি খুবই উপকৃত হবে। একদিকে যেমন মন্দিরের অবশিষ্ট ফুলের বর্জ্য মন্দির চত্বরে জমে দূষণ ছড়াবে না, অন্যদিকে এলাকার বহু মানুষের, বিশেষত মহিলাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। বর্তমানে একটি এনজিও সার তৈরি করলেও, সরকারি স্তরে ধূপবাতি তৈরির কারখানা বা ওয়ার্কশপ হলে সাধারণ মানুষ অনেক বেশি সুফল পাবেন।”