নিজস্ব চিত্র
Bangla Jago Desk: পরিশ্রম, নিষ্ঠা আর মায়ের উৎসাহ- এই তিনে ভর করেই মাধ্যমিক পরীক্ষায় রাজ্যের অষ্টম স্থান অধিকার করেছে বর্ধমানের পাপড়ি মন্ডল। ৬৮৮ নম্বর পেয়ে সে পৌঁছে গেছে রাজ্য মেধাতালিকার প্রথম সারিতে।
বর্ধমান শহরের পারবীরহাটা এলাকার বাসিন্দা পাপড়ির এই অসামান্য সাফল্যে উচ্ছ্বসিত পরিবার থেকে শুরু করে বিদ্যালয় পর্যন্ত সবাই। সে পড়াশোনা করেছে বর্ধমান বিদ্যার্থী ভবন গার্লস হাইস্কুলে। ছোট থেকেই পড়াশোনার প্রতি তার ছিল প্রবল আগ্রহ। পড়ার ফাঁকে ফাঁকে সে গল্পের বই পড়া, কবিতা লেখা ও পাঠে মগ্ন থাকত।
তার মা পূর্ণিমা মন্ডল একজন গৃহবধূ এবং বাবা দেবাশীষ মন্ডল একজন দর্জির ব্যবসায় যুক্ত। পরিবারের সাদামাটা জীবনের মধ্যেও মা-বাবার অনুপ্রেরণাই ছিল পাপড়ির সবচেয়ে বড় সহায়। পাপড়ি জানিয়েছে, “আমার এই সাফল্যের পিছনে মায়ের অবদান সবচেয়ে বেশি। তিনি সবসময় আমার পাশে থেকেছেন, পড়াশোনার পরিবেশ তৈরি করে দিয়েছেন।”
পড়াশোনার জন্য কখনও কোচিং বা আলাদা গাইডেন্সের প্রয়োজন পড়েনি পাপড়ির। সে বাড়িতেই নিজের সময় মেনে পড়াশোনা করত। তার দৃষ্টান্ত প্রমাণ করে, ইচ্ছাশক্তি ও আত্মনিয়ম থাকলে কোনো প্রতিকূলতাই বড় বাধা নয়।
[আরও পড়ুন: আবার খুলল আটারি-ওয়াঘা সীমান্তের গেট! ফিরে যাচ্ছে আটকে থাকা পাক নাগরিকরা]
পাপড়ির ভবিষ্যৎ স্বপ্ন একজন ফরেস্ট অফিসার হওয়া। প্রকৃতির সান্নিধ্যে থেকে সমাজ ও পরিবেশের জন্য কাজ করতে চায় সে। এমন স্বপ্ন ও লক্ষ্যকে ঘিরে পাপড়ির এই সাফল্য নিঃসন্দেহে আগামী প্রজন্মের কাছে এক উদাহরণ হয়ে থাকবে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষিকারাও জানিয়েছেন, পাপড়ি অত্যন্ত মেধাবী ও নম্র স্বভাবের ছাত্রী। তার এই কৃতিত্বে বিদ্যালয় গর্বিত। পাপড়ির এই সফলতা প্রমাণ করে, সত্যিকারের পরিশ্রম ও অনুপ্রেরণাই একজন ছাত্রীর ভবিষ্যৎ গড়ে দিতে পারে।