ad
ad

Breaking News

South 24 Paraganas

দুই অন্ধ ছেলেকে নিয়ে জীবন যুদ্ধে লড়াই বৃদ্ধা মায়ের

গঙ্গাসাগরের খান সাহেব আবাদ এলাকায় এক চিলতে কুঁড়েঘরে দুই অন্ধ ছেলেকে নিয়ে বসবাস রোহিনি পাখিরা।

Elderly mother fights for life with two blind sons

চিত্রঃ নিজস্ব

Bangla Jago Desk: দুই অন্ধ ছেলেকে নিয়ে জীবন যুদ্ধে লড়াই পড়ে যাচ্ছে এক বৃদ্ধ মা। ৮০ ঊর্ধ্ব চলাফেলার একমাত্র ভরসা লাঠি। লাঠির উপর ভরসা করে চলাফেরা আর অন্ধ দুই ছেলেকে বুকে আগলে রেখে জীবন যুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে বৃদ্ধ রোহিনি পাখিরা। গঙ্গাসাগরের খান সাহেব আবাদ এলাকায় এক চিলতে কুঁড়েঘরে দুই অন্ধ ছেলেকে নিয়ে বসবাস রোহিনি পাখিরা। বয়সের ভারে চলাফেরা কার্যত বন্ধ হতে বসেছে কিন্তু দুই অন্ধ ছেলের মুখ চেয়ে দিন গুজরাচ্ছে রোহিনী। দুবেলা দুমুঠো অন্ন জোগাড় করাও  দুর্বেশহ হয়ে উঠেছে সরকারি সাহায্যের উপরে ভরসা।

দুই ছেলের মধ্যে এক ছেলে ও রোহিনী প্রতিবন্ধী ভাতা ওপরে ভরসা তাদের। সাধারণ মানুষও বেশ কিছু সময় আর্থিক সাহায্য করে রোহিনি পাখিরাখে সেই আর্থিক সাহায্যের উপরেই ভর করে চলে সংসার। রোহিণী পাখিটার এক ছেলের প্রতিবন্ধী কার্ড হলেও অন্য একটি ছেলের আধার কার্ড এখনো হয়নি। আধার কার্ড না হওয়ার কারণে সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ওই ছেলেটি। রোহিনী দুই ছেলে পাশাপাশি দুই মেয়েও ছিল। দুই ছেলের জন্ম থেকে অন্ধ এবং দুই মেয়ে বিয়ে দিয়ে দেন রোহিণী। এখন দুই অন্ধ ছেলেকে নিয়েই জীবন যাপন রোহিণী পাখিরা।

এবিষয়ে রোহিনী পাখিরা জানান, “দুই অন্ধ ছেলেকে নিয়ে কোন রকমে চলে সংসার। আমিও বয়স তেমন চলাফেরা করতে পারি না দুই ছেলেই অন্ধ। সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতার ওপরে বেঁচে রয়েছি। সরকার যদি আমাদের দিকে মুখ তুলে তাকায় তাহলে আমরা আগামী দিনে বেঁচে থাকতে পারবো না হলে সবকিছুই শেষ হয়ে যাবে। আমার দুই অন্ধ ছেলের ভরসায় আমি আমার বয়স হয়েছে সরকার আমার এই ছেলে দুটির কোন ব্যবস্থা করে দিক। সরকার যদি আমাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ায় তাহলে আগামী দিনের কোনরকম ভাবে দুই ছেলেকে নিয়ে সংসার চালিয়ে যেতে পারবো।” যদিও প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে ইতিমধ্যে বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে খুব শীঘ্রই সরকারি যে সকল সুযোগ সুবিধা রয়েছে সেই সুযোগ-সুবিধা যাতে ওই পরিবার পায় সে বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হতদরিদ্র পরিবার চাতক পাখির মতন সরকারি সাহায্যের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে।