গ্রাফিক্স: নিজস্ব
Bangla Jago Desk: শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের অন্তর্গত ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ফাঁসিদেওয়া এলাকায় ফের একবার দেখা মিলল এক রহস্যময় ড্রোনের। মঙ্গলবার রাতের এই ঘটনাটি ঘিরে এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে প্রবল চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ।
সূত্র অনুযায়ী, ফাঁসিদেওয়ার বিধাননগর অঞ্চলের আকাশে স্থানীয় বাসিন্দারা হঠাৎই একটি অজানা ড্রোন উড়তে দেখেন। ড্রোনটি বেশ কিছুক্ষণ ধরে নিম্নউচ্চতায় উড়ছিল বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। ঘটনাটি নজরে আসতেই বাসিন্দারা সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি বিধাননগর থানার পুলিশকে জানান। দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে ও ড্রোনটির ছবি ক্যামেরাবন্দি করে।
ফাঁসিদেওয়ায় ফের দেখা গেল ড্রোন, সীমান্তবর্তী এলাকায় চাঞ্চল্য pic.twitter.com/axWcDyRoU3
— Bangla Jago Tv (@BanglaJagotv) May 28, 2025
তবে সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল, প্রশাসনের কাছে ড্রোন ওড়ানোর কোনো পারমিশনের তথ্য নেই বলে জানা গিয়েছে। তাহলে সেই ড্রোনটি কোথা থেকে উড়ে এল, এবং কার উদ্দেশ্যে —এই প্রশ্নগুলি ঘুরপাক খাচ্ছে স্থানীয়দের মনে। পুলিশের তরফে এখনো পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে গোটা ঘটনাটি ঘিরে সন্দেহের আবহ ঘনীভূত হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, এটি প্রথম ঘটনা নয়। গত ২৬ মে রাতেও একই এলাকায় এমন একটি ড্রোন দেখা গিয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গত কয়েক মাস ধরেই সীমান্ত অঞ্চলে নিয়মিতভাবে ড্রোন উড়তে দেখা যাচ্ছে। তাঁদের দাবি, রাতের অন্ধকারে এসব ড্রোন সীমান্ত পার করে আসছে, এবং সম্ভবত সীমান্ত নজরদারি বা গোয়েন্দাগিরির উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে।
বাসিন্দারা আরও জানান, আগে সীমান্তে বিএসএফ টহল তেমন ছিল না, কিন্তু সম্প্রতি ‘অপারেশন সিন্দুর’ নামক একটি বিশেষ অভিযানের পর থেকে বিজেপির গতিবিধি অনেক বেড়েছে। সেইসঙ্গে তারা দাবি করছেন, সীমান্তের ওপারে কোনো সময় সভা-সমাবেশ বা মিছিল হলে সেখানে প্রায়শই ভারত-বিরোধী বক্তব্য মাইকে প্রচারিত হয়।
এই পরিস্থিতিতে সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা। অনেকের মতে, এই ড্রোনগুলির পেছনে কোনো শত্রু দেশের ষড়যন্ত্র লুকিয়ে থাকতে পারে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তাই গোটা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার হস্তক্ষেপের দাবি উঠেছে।
ফাঁসিদেওয়া সীমান্তে বারবার রহস্যময় ড্রোনের উপস্থিতি নিঃসন্দেহে চিন্তার বিষয়। জাতীয় নিরাপত্তা, স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তা এবং সীমান্ত পরিস্থিতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রশাসনকে আরও সজাগ ও সক্রিয় হতে হবে। শুধু স্থানীয় পুলিশের পর্যবেক্ষণ নয়, কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তদন্ত ও নজরদারির প্রয়োজনীয়তা এখন স্পষ্ট।