চিত্রঃ নিজস্ব
Bangla Jago Desk: শান্তনু পান, পূর্ব মেদিনীপুর: নববর্ষ উপলক্ষে দিঘার ঝাউবনে পিকনিকের পরিকল্পনা করছেন বহু পর্যটক। বর্ষবরণের আনন্দে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে ভিড় জমছে সমুদ্রতট লাগোয়া ঝাউবনে। তবে আনন্দের মাঝেই বাড়ছে উদ্বেগ। পর্যটকদের অসতর্কতার কারণে আগেও একাধিকবার দিঘা ও কাঁথি বনাঞ্চলে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। পিকনিকের মরসুমে বিভিন্ন জায়গা থেকে আগুন লাগার খবর এসেছে। এতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে ঝাউগাছ ও অন্যান্য বনজ সম্পদের। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবছর আগে থেকেই সতর্ক হয়েছে বনদফতর। পর্যটকদের সচেতন করতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ঝাউবনের বিভিন্ন প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বড় বড় পোস্টার লাগানো হয়েছে। পাশাপাশি লিফলেট বিলি করে সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে।
বনদফতরের তরফে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, ঝাউবনের ভিতরে যেখানে-সেখানে আগুন জ্বালানো যাবে না। পিকনিক হোক বা আগুন পোহানো—খোলা জায়গায় আগুন না লাগানোই সবচেয়ে নিরাপদ। জ্বলন্ত সিগারেট বা বিড়ির অবশিষ্টাংশ কোনওভাবেই বনভূমিতে ফেলা যাবে না। ছোট একটি অবশিষ্টাংশ থেকেও বড় আগুন লাগতে পারে। পিকনিক শেষে অবশ্যই দেখে নিতে হবে আগুন পুরোপুরি নিভে গেছে কি না। অনেক সময় অল্প আগুন থেকেই শুকনো পাতায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এই বিষয়গুলিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে পর্যটকদের।
এছাড়াও প্লাস্টিক, কাগজ বা শুকনো পাতা পোড়াতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। এইসব জিনিস খুব দ্রুত আগুন ছড়িয়ে দেয়। বনদফতরের মতে, অনেক ক্ষেত্রেই এই ধরনের বর্জ্য পোড়ানোর কারণে বড়সড় অগ্নিকাণ্ড ঘটে। কাচের বোতল বা ভাঙা কাচ ফেলে যাওয়াও বিপজ্জনক। সূর্যের তাপে কাচ লেন্সের মতো কাজ করে শুকনো পাতায় আগুন ধরাতে পারে। শিশুদের দিকেও বিশেষ নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা যেন আগুন বা কোনও দাহ্য বস্তু নিয়ে খেলাধুলা না করে, সে বিষয়ে অভিভাবকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।