চিত্র: প্রতীকী
Bangla Jago Desk: ভুয়ো ভোটারদের বিষয়ে সতর্ক হচ্ছে নির্বাচন কমিশন। বহিরাগতদের নাম কোথায় কোথায় সংযোজন করা হয়েছে তা জেলা প্রশাসনকে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট করতে বলেছে কমিশন। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক দিব্যেন্দু দাশ জানিয়েছেন, কোনওভাবেই যাতে ভোটার তালিকায় ভুয়ো ভোটার বা মৃত ব্যক্তিদের নাম না থাকে তার জন্য নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। চম্পাহাটিতে ৪হাজার বহিরাগত ভোটারের নাম দেখা যাওয়ায় রাজনৈতিক বিতর্ক বাঁধে। তৃণমূল কংগ্রেস সেই ঘটনায় সোচ্চার হয় বিজেপির বিরুদ্ধে।
ছাব্বিশের ভোটের আগে হট টপিক ভুয়ো ভোটার।তৃণমূল বনাম বিজেপির বাগযুদ্ধ চরমে।তৃণমূলের অভিযোগ, দিল্লি- মহারাষ্ট্রের মতোই বাংলাতেও ভুয়ো ভোটারের নাম তোলা হচ্ছে।অনলাইনে ঘুরপথে বহিরাগতদের নাম নথিভূক্ত করা হচ্ছে। বহিরাগত রাজনীতির কারবারীদের বিরুদ্ধে নবান্নে ১২ফেব্রুয়ারি ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি বিজেপিকে নিশানা করে তোপও দাগেন তিনি।
কি করে এই ভূতুড়ে ভোটারদের অনুপ্রবেশের মাধ্যমে কারসাজি করা হচ্ছে? সেই প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি তৃণমূল কর্মীদের ভোটার তালিকায় নজর বাড়ানোর নির্দেশও দেন প্রশাসনিক প্রধান। আর সেই নির্দেশের পরেই পর্দা ফাঁস হয়। দেখা যায়, চম্পাহাটিতে কোথাও ২০০, কোথাও ৩০০বাইরের ভোটারের নাম অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।দক্ষিণবঙ্গের এই প্রান্তিক জেলার ভোটার তালিকায় উত্তরবঙ্গের বাসিন্দাদের নাম। অভিযোগ উঠেছে,চম্পাহাটিতে আগে যেখানে ১৮ হাজারের কাছে ভোটার ছিল, ২০২৫-এর সংশোধিত তালিকায় ভোটারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২২হাজার।
এক লাফে ৪ হাজারের ওপর ভোটার বেড়ে যাওয়ায় সরব হয় তৃণমূল কংগ্রেস। গেরুয়া শিবিরের কারসাজি বলে তৃণমূল নেতৃত্ব সোচ্চার হন। এরপরই মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ জেলাশাসকদের ভোটার তালিকা সংশোধন বা পরিমার্জন নিয়ে সতর্কথাকার নির্দেশ দেন। এবার ভুয়ো ভোটারদের নিয়ন্ত্রণে আনতে নজরদারি শুরু কমিশনের। দঃ ২৪পরগনা সহ অন্য জেলার জেলাশাসকদের কাছে স্বতঃপ্রণোদিত রিপোর্ট তলব করল রাজ্য নির্বাচন কমিশন। ভুয়ো-মৃত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
৪৮ ঘন্টার মধ্যে রাজ্যের সব অতিরিক্ত জেলাশাসকের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করতে চান রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর,এমনটাই সূত্রের খবর। তাই স্বচ্ছ-অবাধ-নিরপেক্ষ ভোটের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন এখন থেকেই সজাগ থাকতে চায় বলে আভাস মিলছে। ছাব্বিশের ভোটের আগে ভোটার তালিকা সংশোধনী বা নাম সংযোজন নিয়ে সবদিক থেকে সতর্কতা অবলম্বন করার কমিশনের উদ্যোগও বেশ লক্ষ্যণীয়।