চিত্র- নিজস্ব
Bangla Jago Desk: রাজ্যে পালাবদলের আবহেও থামছে না খুনের রাজনীতি। বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়ায় শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের নৃশংস হত্যাকাণ্ড নিয়ে এবার বিস্ফোরক সব তথ্য উঠে আসছে তদন্তকারীদের হাতে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এটি কোনও তাৎক্ষণিক অপরাধ নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে ‘রেইকি’ করে এবং ভিনরাজ্যের পেশাদার খুনিদের ব্যবহার করে এই অপারেশন চালানো হয়েছে।
অপারেশন ‘দোহাড়িয়া’: যেভাবে চলল গুলি
পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, রাত ১১টা নাগাদ চন্দ্রনাথ যখন কলকাতা থেকে ফিরছিলেন, তখন থেকেই তাঁর স্করপিও গাড়ির পিছু নিয়েছিল আততায়ীরা। দোহাড়িয়া এলাকার একটি বিরিয়ানি দোকানের সামনে আসতেই সামনে থেকে একটি চার চাকা গাড়ি চন্দ্রনাথের গাড়ির গতি রোধ করে। গাড়িটি থামতেই পাশে বাইক নিয়ে এসে দাঁড়ায় দুষ্কৃতীরা। গাড়ির জানলার কাচে বন্দুক ঠেকিয়ে অন্তত ১০ রাউন্ড গুলি চালানো হয়। অকুস্থলেই লুটিয়ে পড়েন চন্দ্রনাথ। ঘাতকরা বাইকে চেপে এলাকা ছাড়লেও ফেলে যায় তাদের ব্যবহৃত চার চাকা গাড়িটি।
জোসেফ উইলিয়ামস ও ভুয়ো গাড়ির রহস্য
বাজেয়াপ্ত করা চার চাকা গাড়িটির নম্বর প্লেট খতিয়ে দেখে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, গাড়িটি শিলিগুড়ির মাটিগাড়া এলাকার বাসিন্দা জোসেফ উইলিয়ামসের নামে নথিভুক্ত। তবে তদন্তকারীদের সন্দেহ, গাড়ির চেসিস নম্বর বিকৃত করা হয়েছে এবং নম্বর প্লেটটি ভুয়ো হতে পারে। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হল, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া কার্তুজ দেখে পুলিশের অনুমান, এই খুনে অত্যাধুনিক ‘অস্ট্রিয়ান গ্লক পিস্তল’ ব্যবহার করা হয়েছে, যা সাধারণত পেশাদার সুপারি কিলাররা ব্যবহার করে থাকে।
সিসিটিভি ফুটেজে ঘাতকদের হদিশ
তদন্তকারীরা সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে জানতে পেরেছেন, বুধবার দুপুরেই দোলতলার সাহারা ব্রিজের কাছে ঘাতকদের গাড়িটি দেখা গিয়েছিল। অর্থাৎ, চন্দ্রনাথ কখন বাড়ি ফিরবেন এবং তাঁর যাতায়াতের পথ কী, তা দুষ্কৃতীদের নখদর্পণে ছিল। পুলিশ মনে করছে, এই খুনের নেপথ্যে বড় কোনো ‘মাস্টারমাইন্ড’ কাজ করছে।
শুভেন্দুর প্রতিক্রিয়া ও পুলিশের অ্যাকশন
বৃহস্পতিবার সকালে বারাসত হাসপাতালে চন্দ্রনাথের ময়নাতদন্তের সময় উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, “রাজ্যের পুলিশ পারে না এমন কোনো কাজ নেই। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই নামগুলো বলছি না।” যশোর রোড-সহ আশপাশের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ স্ক্যান করে ঘাতকদের পালানোর পথ চিহ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। সব মিলিয়ে, এই শ্যুটআউট কাণ্ড এখন বঙ্গ রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে।