চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চাঞ্চল্যকর মোড়! রাজ্যের বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের হত্যাকাণ্ডে এবার ময়দানে নামল রাজ্য পুলিশের তদন্তকারী শাখা সিআইডি (CID)। বৃহস্পতিবার সকালে দোহাড়িয়ার ঘটনাস্থলে পৌঁছে নমুনা সংগ্রহের কাজ শুরু করেছেন গোয়েন্দারা। গোটা এলাকা এখন পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া ঘেরাটোপে। যশোর রোড থেকে দোহাড়িয়ার ফ্ল্যাট পর্যন্ত যাওয়ার রাস্তায় জারি করা হয়েছে কড়া বিধিনিষেধ।
ময়নাতদন্তে ৩ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড
চন্দ্রনাথের মৃত্যু নিয়ে কোনও ফাঁক রাখতে চাইছে না প্রশাসন। বারাসত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের মর্গে ভোরেই পাঠানো হয়েছে মরদেহ। ময়নাতদন্তের জন্য গড়া হয়েছে তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ টিম, যার নেতৃত্বে থাকছেন বিভাগীয় প্রধান ও দুইজন সহকারী অধ্যাপক। প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্র হাতে পেলেই শুরু হবে প্রক্রিয়া। পুরো ময়নাতদন্ত পর্বের ভিডিওগ্রাফি হতে পারে বলেও সূত্রের খবর। হাসপাতাল চত্বরে জমায়েত রুখতে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ ও আধাসেনা বাহিনী।
তদন্তে ফরেনসিক ও সিআইডি-র যৌথ অভিযান
বুধবার রাতে দোহাড়িয়ার ফ্ল্যাটের অদূরেই গুলিবিদ্ধ হন চন্দ্রনাথ। যে গাড়িটিতে তিনি ছিলেন, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা সেটির পরীক্ষা করে শিউরে ওঠার মতো তথ্য পেয়েছেন। চালকের আসন এবং পাশের সিট, দু’জায়গাতেই পুরু রক্তের স্তর মিলেছে। ঘাতকরা খুব কাছ থেকে গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। শিলিগুড়ির নম্বরপ্লেট লাগানো যে রহস্যময় গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, সেটির হদিশ পেতে ভিনরাজ্যের পুলিশের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হতে পারে।
শুভেন্দুর ‘রেকি’ তত্ত্ব ও রাজনীতির ছায়া
শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট অভিযোগ তুলেছেন যে, গত কয়েকদিন ধরে তাঁর আপ্তসহায়ককে ‘রেকি’ করা হয়েছিল। অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পিতভাবে এই খুন করা হয়েছে। যদিও শুভেন্দু জানিয়েছেন তিনি পুলিশের ওপর ভরসা রাখছেন, তবে বিজেপি কর্মীদের ক্ষোভ প্রশমিত হচ্ছে না। মধ্যমগ্রাম জুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে ৫০০ কোম্পানিরও বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী। দোহাড়িয়ার ফ্ল্যাটের আশেপাশে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। গাড়িতে থাকা আহত অন্য ব্যক্তিকে বর্তমানে কলকাতার ইএম বাইপাসের ধারের এক বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাঁর জবানবন্দি এই মামলার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হতে পারে বলে মনে করছে সিআইডি।