চিত্রঃ নিজস্ব গ্রাফিক্স
Bangla Jago Desk: রাজ্যে নির্বাচনী উত্তাপে চড়ছে পারদ। পাহাড় থেকে সাগর সর্বত্রই নির্বাচনী প্রচারে ঝড় উঠেছে। সাধারণ মানুষের সমর্থন পেতে মরিয়া সব রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের পর জেলায় জেলায় জনসংযোগে সব দলের প্রার্থীরা। হুগলি জেলার চন্দননগর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে এই নিয়ে তিনবার তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইন্দ্রনীল সেন। এবারের নির্বাচন নিয়ে কী ভাবছেন? নির্বাচিত হলে আগামী পাঁচ বছরে কোন কাজ গুলিকে অগ্রাধিকার দেবেন? খোলামেলা আলোচনায় ‘আরো খবর’-এর সম্পাদক রাজাময় মুখোপাধ্যায়-কে নিজের বিধানসভা কেন্দ্রের আগামী দিনের ভাবনার কথা তুলে ধরলেন তৃণমূল প্রার্থী ইন্দ্রনীল সেন।

জয়ের হ্যাট্রিকের লক্ষ্যে চন্দননগরের রাজনৈতিক ময়দানে রাজ্যের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। নির্বাচনী প্রচার এখন
মধ্যগগনে। তৃণমূল প্রার্থীর আস্থা চন্দননগরের আমজনতার ওপর। তাই তিনি বিভিন্ন সভায় বলছেন – ভোট যাকেই দিন, ভোটটা দিন। এবারের ভোট কোনোভাবেই নষ্ট করবেন না। উন্নয়নের নিরিখে ভোট দিন।

আমরা কী করতে পেরেছি
আমরা কী করতে পেরেছি তা চন্দননগরের মানুষ বিচার করবেন। সব কাজ যে করতে পেরেছি তা হয়তো ঠিক নয়, তবে কাজ কখনও শেষ হয় না। যেমন কোন একটা রাস্তা ঠিক করার পর কোন একদিন ভেঙে যাবে, আবার তা ঠিক করতে হবে। চন্দননগরে অনেক কাজ হয়েছে। আগামী দিনে আরও অনেক কাজ হবে। চন্দননগরে এখনো অনেক কাজ বাকি আছে। এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ করার জন্য সদিচ্ছার কোন অভাব নেই।

৩৪ বছরের থেকে ১০০০ গুণ বেশি কাজ
২০১১ সাল থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে সারা বাংলার উন্নয়নের কাজ করেছেন এই চন্দননগরও তার ব্যতিক্রম নয়। গত ১১ বছরে চন্দননগরে যে উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে, দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি ২০১১ এর আগে ৩৪ বছরে সেই কাজ হয়নি। বামফ্রন্টের সময়ে যে কাজ হয়েছে তার ১০০০ গুণ বেশি কাজ হয়েছে গত ১১ বছরে।
বিরোধীদের সম্পর্কে কম কথা
বিরোধী যাঁরা প্রার্থী হয়েছেন তাদের সম্পর্কে খুব বেশি কথা বলে সময় নষ্ট করার কোন অর্থ নেই। তাতে গুরুত্বপূর্ণ কথা বলা কম হয়। কী সিপিএম করছে, কী বিজেপি করছে, কী কংগ্রেস করছে, কী নির্দল প্রার্থী করছে তা চন্দননগরের মানুষ জানেন। একটা কথা বলতে পারি নবান্নে আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চতুর্থ বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন তিনি এটা আপামর বাঙালি জানেন। শুধুমাত্র নিয়ম রক্ষার জন্যই বিরোধীরা যে প্রার্থী দিয়েছে তা তারাও জানে!
এসআইআর: গুরুত্বপূর্ণ ভোট
এসআইআর হওয়ার পর যাদের নাম ভোটার লিস্টে উঠেছে, সকলকে বলবো যে দলেই আপনি ভোট দিন না কেন নিজের ভোটটি এবার দিন। যেভাবে দিল্লির সরকার বাংলার ভোটারদের নাম কেটে বাদ দিচ্ছে তাতে করে যারা ভোট দেবেন না তাদের আবার চিহ্নিত করতে পারে। আবার নতুন করে স্ক্রুটিনি করবে তারপর ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠাবে। এমনকি জেলেও পাঠাতে পারে। কারণ বিজেপির লক্ষ্য ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন। এইভাবে ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দিল্লির মসনদ দখল করবার চক্রান্ত করবে বিজেপি।

ভোটারদের পাশে আমরা
আমরা তৃণমূল কংগ্রেস কখনোই চাই না কোন একজন ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ যাক। তিনি যে দলের সমর্থকই হোক না কেন। এবারের ভোট নষ্ট করবেন না।
চন্দননগরের ৩০ হাজার বাদ
চন্দননগর বিধানসভা এলাকার প্রায় ৩০ হাজার ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এই ৩০ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়ার পরও এই চন্দননগর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের প্রার্থী পঞ্চাশ হাজারের বেশি ভোটে জিতবে। কারণ গত ১৫ বছরে চন্দননগরে যে উন্নয়ন হয়েছে তার নিরিখে মানুষ ভোট দেবেন। মানুষ ভোট দেবে বিজেপির ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে।
বাংলার অস্মিতা রক্ষার ভোট
এবারের ভোটটা শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চতুর্থবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী করার ভোট নয়, এবারের ভোট বাংলার মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার ভোট, বাংলার অস্মিতা রক্ষার ভোট। বাংলার মানুষের ঠিকানা রক্ষা, বাংলার ঐতিহ্য রক্ষা করার ভোট। এই ভোট বাংলার ভিটেমাটি বাঁচানোর ভোট। মানুষের অধিকার, বাংলার অস্মিতা সুরক্ষিত রাখতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমর্থন করতে হবে।
জনসাধারণের জন্য সরকার
যেভাবে এই বাংলায় আমরা শান্তিতে বসবাস করছি সব দলের লোক, যে কোনো দল যে কোনো সময় তারা তাদের কর্মসূচি পালন করতে পারে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকার সেই কর্মসূচিতে কোনদিন বাধা দেয়নি। জনসাধারণের জন্য বাংলায় ‘মা মাটি মানুষ’-এর সরকার। সামাজিক অবস্থানে বাংলার মানুষের অবাধ স্বাধীনতা রয়েছে। কোন দলকেই এজন্য বাধার মুখে পড়তে হয় না। জনগণকেও পড়তে হয় না বাধার মুখে।
স্বাধীনভাবে ভোট দিন
ভোট দেওয়ার আগে নিজের বিবেককে একবার প্রশ্ন করবেন উপকার কার কাছ থেকে পেয়েছেন? যদি মনে করেন বিজেপির কাছ থেকে পেয়েছেন বিজেপিকে ভোট দিন, যদি মনে করেন সিপিএমের কাছ থেকে পেয়েছেন সিপিএমকে ভোট দিন, কংগ্রেসের কাছ থেকে পেয়েছেন কংগ্রেসকে ভোট দিন, তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের কাছ থেকে পেয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোট দিন।

সকলের জন্য কাজ
গত দশ বছর বিধানসভায় আমার কেটে গেল। এই দশ বছরে দলমত নির্বিশেষে প্রত্যেকের জন্য কাজ করার চেষ্টা করেছি। ৪ঠা মে এখান থেকে নির্বাচিত হয়ে আমি সব দলের যারা মানুষ রয়েছেন, দু’লক্ষের বেশি ভোটার রয়েছে এই বিধানসভায়, চন্দননগর বিধানসভার আপামর মানুষের জন্য গত ১০ বছরে যেভাবে কাজ করেছি আগামী পাঁচ বছরেও সেই একই ভাবে কাজ করব।
কাজ করেনি বিরোধী সাংসদ
এখানকার প্রাক্তন সাংসদ এবং বিরোধী দলনেতা এলাকায় এসে মিথ্যা তথ্য দিয়ে গিয়েছেন। তাদেরকে জানাই এলাকার প্রাক্তন সাংসদের সময়কালে চন্দননগর বিধানসভার কোনও উন্নয়ন সাংসদ কোটার টাকায় হয়নি।উন্নয়নমূলক কোনও কাজ করেননি তিনি। বছরে সাত কোটি টাকা প্রায় পেয়েছেন, এক কোটি টাকা করে এই বিধানসভার প্রাপ্য ছিল। পাঁচ বছরে ৫ কোটি টাকা। কোন উন্নয়ন হয়নি সেই অর্থে।

চন্দননগরের ১০০ কোটির উন্নয়ন
চন্দননগরে যে উন্নয়ন হয়েছে তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করেছেন। এখানকার উন্নয়নের স্বার্থে তাই বলবো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে ভোট দিন। আর যদি মনে করেন এই জগদ্ধাত্রী পুজোয় এক মিনিটের জন্যও আলোর শহর আর কোনদিন অন্ধকারাচ্ছন্ন হবে না তাহলে তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোট দিন। প্রায় একশ কোটি টাকার মত খরচ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই চন্দননগরের উন্নয়ন করেছেন। এখানে আলো হাব করেছেন তিনি।
ইতিহাস কথা বলে
ইতিহাস সমৃদ্ধ চন্দননগর। এই শহরের অলিতে গলিতে ইতিহাস কথা বলে। প্রাচীন এই শহরের সমৃদ্ধির কাজ করে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত সরকার। এখানকার জগদ্ধাত্রী পুজো আরও রাজকীয় হয়েছে। চন্দননগরের সেই ঐতিহ্য ও সৌন্দর্য বজায় রাখতে এবারের নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনাকেই।