চিত্র- AI
Bangla Jago Desk: ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ মামলায় অবশেষে আংশিক স্বস্তি পেল মমতা-পন্থী তৃণমূল। কলকাতা হাইকোর্টের একক বেঞ্চের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য এক নজিরবিহীন রায়ে তৃণমূলের ফ্রিজ হয়ে থাকা অ্যাকাউন্টগুলি থেকে টাকা তোলার সাময়িক অনুমতি দিয়েছেন। তবে এর জন্য আদালত বসিয়েছে এক কড়া আইনি প্রহরা। কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুব্রত তালুকদারকে এই মামলার ‘স্পেশ্যাল অফিসার’ হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে, যাঁর কাউন্টার সই বা অনুমোদন ছাড়া ফান্ড থেকে একটি টাকাও বের করা যাবে না।
কলকাতা পুলিশের নির্দেশে তৃণমূল কংগ্রেসের তিনটি মূল অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার পর তীব্র আর্থিক সঙ্কটে পড়েছিল কালীঘাট শিবির। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল তারা। বৃহস্পতিবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে এই মামলার শুনানিতে আদালত স্পষ্ট জানায়, দল পরিচালনার জন্য জরুরি খরচ চালাতে অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলা যাবে, তবে তা সম্পূর্ণ আইনি নজরদারিতে।
আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুব্রত তালুকদার স্পেশাল অফিসার হিসেবে এই অ্যাকাউন্টের দেখভাল করবেন। তৃণমূলের পক্ষে যে দু’জন ব্যক্তি এই অ্যাকাউন্ট অপারেট করার জন্য অনুমোদিত, তাঁরা চেকে সই করার পর তাতে স্পেশাল অফিসার বিচারপতি সুব্রত তালুকদারের ‘কাউন্টার সাইন’ বা প্রতি-স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক। শুধু তাই নয়, ওই অ্যাকাউন্ট থেকে প্রতিদিন ঠিক কত টাকা এবং কী বাবদ খরচ করা হচ্ছে, তার পাই-পাই হিসাব প্রতি সপ্তাহে কলকাতা হাইকোর্টে জমা দিতে হবে।
এই মামলার শুনানির সময় সবথেকে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনাটি ঘটে যখন আদালতের তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয় দলের বিদ্রোহী তথা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘বিদ্রোহী তৃণমূল’ শিবিরকে। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য কড়া পর্যবেক্ষণ প্রকাশ করে বলেন, “যখন ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই করার জন্য এই একই অ্যাকাউন্ট থেকে কোটি কোটি টাকা তোলা হচ্ছিল এবং আপনারা সেই প্রতীকে লড়ছিলেন, তখন তো কোনও প্রশ্ন তোলেননি! তখন কোনও আর্থিক অনিয়ম চোখে পড়েনি? আজ নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর দল হেরে যেতেই কেন এই অ্যাকাউন্টের লেনদেন নিয়ে এত অভিযোগ?” বিচারপতির এই মন্তব্যে কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়ে বিদ্রোহী শিবির।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) কর্তৃক ৪৪০ কোটি টাকা ফ্রিজ করার ধাক্কার মাঝেই, কলকাতা পুলিশের আগের ফ্রিজ নির্দেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের এই রায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের জন্য বড় অক্সিজেন। অন্তত আগামী তিন মাস অন্তর্বর্তীকালীনভাবে দলের আইনি লড়াই ও দৈনিক সাংগঠনিক খরচ চালানোর মতো টাকা তাঁরা তুলতে পারবেন। তবে প্রতিটি খরচের হিসাব আদালতের স্ক্রুটিনিতে থাকায় কোনওভাবেই যে টাকা অন্য কোথাও সরানো যাবে না, তা-ও পরিষ্কার করে দিয়েছে উচ্চ আদালত। এই মামলায় পরবর্তী শুনানি কবে হয় এবং ইডির মামলার ক্ষেত্রে এই রায়ের কী প্রভাব পড়ে, এখন সেটাই দেখার।