চিত্রঃ প্রতীকী
Bangla Jago Desk: পূর্ব বর্ধমানের ভাতার থানার ভূমশোর গ্রামে চাঞ্চল্যকর ঘটনা। এসআইআর (SIR) বা সংশোধিত ভোটার তালিকা প্রক্রিয়ার আতঙ্কে ফের এক মহিলার ‘আত্মহত্যার’ খবর সামনে এল। মৃতার নাম মুস্তরা খাতুন কাজি। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মাঝবয়সী মুস্তরা খাতুন কাজি অবিবাহিত ছিলেন এবং বাপেরবাড়ির সদস্যদের সঙ্গে থাকতেন। গতকাল, শুক্রবার রাতে তিনি নিজের গায়ে আগুন দেন বলে অভিযোগ। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে ভাতার ব্লক হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মুস্তরার বাবা-মা আগেই মারা গিয়েছেন। তাঁদের তিন বোন ও এক ভাই, যার মধ্যে মুস্তরা কাজি অবিবাহিত ছিলেন এবং তাঁর দাদা পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে ভিনরাজ্যে কর্মরত (SIR)।
জানা গিয়েছে, সংশোধিত ভোটার তালিকা প্রক্রিয়া (SIR) শুরু হওয়ার পর থেকেই মুস্তরা খাতুন কাজি আতঙ্কিত ছিলেন। যদিও পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় নেতারা তাঁকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে তাঁর ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকায় কোনো সমস্যা হবে না। তারপরেও তাঁর আতঙ্ক কমছিল না। পরিবারের অভিযোগ, গতকাল তিনি এসআইআর ফর্ম জমা দেওয়ার পরেও তাঁর মানসিক অস্থিরতা কাটেনি এবং রাতে সকলের অলক্ষ্যে তিনি নিজের গায়ে আগুন দেন।এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার খবর পেয়ে এলাকার বিধায়ক মানগোবিন্দ অধিকারী শনিবার মৃতার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি নির্বাচন কমিশনের অপরিকল্পিত এসআইআর প্রক্রিয়ার উপর তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন (SIR)।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও মুস্তরার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন বলে খবর। তাঁর নির্দেশে যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষ এদিন সন্ধ্যায় ওই পরিবারের বাড়িতে যাবেন। ভাতার গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য সাইদুল হক অভিযোগ করেছেন, আতঙ্ক দূর করার চেষ্টা সত্ত্বেও ওই মহিলা শেষ পর্যন্ত গায়ে আগুন দেন। তাঁর মতে, নির্বাচন কমিশনের অপরিকল্পিত এসআইআর প্রক্রিয়াই এই দুঃখজনক ঘটনার জন্য দায়ী। ভাতার থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এই ঘটনায় ভূমশোর গ্রাম সহ গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে (SIR)।