চিত্র- নিজস্ব গ্রাফিক্স
AK Bangla Desk: তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ‘বেইমানি’ ও দলত্যাগের অভিযোগে এবার নজিরবিহীন আন্দোলনের মুখে পড়লেন বর্ধমান উত্তরের তৃণমূল বিধায়ক নিশীথ কুমার মালিক। জয়ী হওয়ার পর নেত্রীর সঙ্গ ছেড়ে বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেওয়ায় চরম ক্ষুব্ধ এলাকার দলীয় কর্মী ও সাধারণ ভোটাররা। প্রদেয় মূল্যবান ভোট ফেরত চেয়ে বিধায়ককে সোজা চিঠি পাঠাতে শুরু করেছেন তাঁরা! শুধু বিধায়ককেই নয়, এই চিঠির কপি পাঠানো হয়েছে খোদ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। ক্ষুব্ধ কর্মীদের স্পষ্ট দাবি, তাঁদের দেওয়া ভোটগুলি বাদ দিয়ে বর্ধমান উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে অবিলম্বে ভোট পুনর্গণনা করা হোক।
স্থানীয় সূত্রে খবর, তৃণমূল কর্মী ও সমর্থকদের মূল বক্তব্য হল, তাঁরা সম্পূর্ণভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ ও তাঁর উন্নয়নমূলক নীতি দেখে বর্ধমান উত্তর আসনে জোড়াফুল চিহ্নের প্রার্থী নিশীথ কুমার মালিককে ভোট দিয়ে জয়ী করেছিলেন। কিন্তু ভোটে জেতার পরেই তিনি দলনেত্রীর সঙ্গে ‘গদ্দারি’ করে বিদ্রোহী শিবিরে নাম লেখান। চিঠিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখা হয়েছে, “যেহেতু নিশীথ কুমার মালিক বর্তমানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দলে আর নেই, তাই আমাদের দেওয়া মূল্যবান ভোটগুলি তাঁর প্রাপ্ত মোট ভোট থেকে বাদ দিয়ে পুনরায় গণনা করা হোক।”
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক সমীকরণের রদবদলে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ত্যাগ করে একের পর এক জয়ী ৬৫ জন বিধায়ক বিরোধী বা বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিয়েছেন, যাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন এই নিশীথ মালিক। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এই বিদ্রোহী গোষ্ঠী আলাদা অবস্থান নিলে, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার তাঁদের ঘরে ফেরার আহ্বান জানান। তবে সেই ডাকে সাড়া না দেওয়ায় মাঠ পর্যায়ে তীব্র হচ্ছে সাধারণ সমর্থকদের ক্ষোভ।
সম্প্রতি সোশাল মিডিয়ায় ভোট ফেরত চাওয়ার এমনই একটি বিস্ফোরক চিঠি ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে। চিঠির লেখক বর্ধমান উত্তরের বাসিন্দা সন্দীপ ভট্টাচার্য জানিয়েছে, তিনি এবং তাঁর স্ত্রী রূপালি ঘড়ুই ভট্টাচার্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর আস্থা রেখেই ভোট দিয়েছিলেন। কিন্তু বিধায়কের এই দলবদলের পর তাঁরা নিজেদের ভোট আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরত চান এবং সেই ভোট বাদ দিয়ে আসনটির হিসেব পুনরায় কষার দাবি তুলেছেন। এই নজিরবিহীন ঘটনার পর এখন চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা বর্ধমান জেলাজুড়ে।