গোপনে ফর্ম ফিলাপ করাচ্ছে বিজেপি? চিত্র- সংগৃহীত
সৌতিক চক্রবর্তী, বীরভূম: ভোটের বাদ্যি বাজতেই রাঙামাটির জেলা বীরভূমে পারদ চড়ছে। এবার বোলপুরে ‘অন্নপূর্ণা প্রকল্প’ ঘিরে শুরু হল তীব্র রাজনৈতিক তরজা। আদর্শ আচরণ বিধি বা ‘মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট’ বলবৎ থাকাকালীনই তলে তলে ফর্ম ফিলাপ ও রেজিস্ট্রেশন করানোর অভিযোগে সরাসরি বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলল শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। বোলপুরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই শিবিরের সংঘাত এখন তুঙ্গে।
তৃণমূলের অভিযোগ, নির্বাচন ঘোষণা হয়ে যাওয়ার পর ভোটারদের প্রভাবিত করতে ‘অন্নপূর্ণা প্রকল্প’-এর নামে গোপনে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করছে বিজেপি কর্মীরা। শাসক দলের দাবি, নির্বাচনের সময় কোনও নতুন সুবিধা বা প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচার করা সম্পূর্ণ বেআইনি। শুধু তাই নয়, এর আড়ালে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে ভোটব্যাঙ্ক দখলের চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ বীরভূমের ঘাসফুল শিবিরের।
১৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সুস্মিতা ভকত এই নিয়ে রীতিমতো সরব হয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, “বিজেপি কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাধারণ মানুষকে নানা মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। শুধু ফর্ম ফিলাপ নয়, রাতের অন্ধকারে আমাদের দলীয় পোস্টার ও ফ্লেক্সও ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। এলাকায় অশান্তি পাকানোর চেষ্টা চলছে।” কাউন্সিলর আরও জানান যে, এই বিষয়ে সমস্ত তথ্য ও প্রমাণ জোগাড় করে জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হবে।
পালটা জবাবে তৃণমূলের দিকেই আঙুল তুলেছে গেরুয়া শিবির। বিজেপির পক্ষ থেকে সঞ্জয় খটিক সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, “আমরা কোনও সরকারি প্রকল্পের ফর্ম বিলি করিনি। আমাদের দলীয় ইস্তেহার এবং প্রচারপত্র বিলি করা হচ্ছিল। তৃণমূল আসলে ভয় পেয়েছে, তাই আমাদের প্রচারে বাধা দিতে এই ধরণের মিথ্যে ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ তুলছে।” বিজেপি নেতার দাবি, পরাজয় নিশ্চিত জেনেই শাসক দল পরিবেশ ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে।
বোলপুরের এই ওয়ার্ডে দুই পক্ষের এই চাপানউতোরে পরিস্থিতি এখন থমথমে। একদিকে তৃণমূল যখন কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন বিজেপিও তাদের মাটি কামড়ে পড়ে থাকার বার্তা দিচ্ছে। ভোটের আগে ‘অন্নপূর্ণা’ প্রকল্পের এই ফর্ম-রহস্য বীরভূমের নির্বাচনী সমীকরণকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার। প্রশাসনের কড়া নজরদারির মাঝে এই বিতর্কের জল কতদূর গড়ায়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।