চিত্রঃ নিজস্ব
Bangla Jago Desk: নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিয়ে যখন বারবার প্রশ্ন উঠছে, ঠিক সেই সময় এক ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটল বীরভূমের রামপুরহাটে। নিজের নামের বানান সংক্রান্ত ত্রুটির অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে হেয়ারিং নোটিস পেলেন খোদ এক বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও)।নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, বীরভূম জেলার রামপুরহাট ১ নম্বর ব্লকের বনহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের বরজোল গ্রামের ১৮২ নম্বর বুথের বিএলও নিরঞ্জন মন্ডলকে আনুষ্ঠানিকভাবে হেয়ারিং-এর নোটিস পাঠানো হয়েছে। নোটিসে উল্লেখ রয়েছে, সরকারি নথিতে তাঁর নামের বানানে ত্রুটি ধরা পড়েছে। সেই কারণেই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তাঁকে শুনানির জন্য তলব করা হয়েছে।
নোটিস অনুযায়ী, আগামী ১৭ জানুয়ারি রামপুরহাট ১ নম্বর ব্লক অফিসে নির্ধারিত হেয়ারিং-এ হাজিরা দিতে হবে নিরঞ্জন মন্ডলকে। নির্বাচন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিতে এই ধরনের ভুল কীভাবে ঘটল এবং তার দায়িত্ব কার—তা নিয়েই মূলত শুনানি হবে বলে জানা যাচ্ছে।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধন ও নির্বাচন সংক্রান্ত কাজে বড়সড় গাফিলতির ইঙ্গিত দিচ্ছে এই ঘটনা।
এই প্রথম নয় এরআগে আরও বেশ কয়েকজন বিএলও-র ডাক পড়েছিল এসআইআর শুনানিতে। পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রামের এসআইআর শুনানিতে হাজির হওয়ার নোটিস পেয়েছিলেন খোদ ১৬৫ নম্বর বুথের বিএলও দেবশঙ্কর চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর স্ত্রী অনিন্দিতা দেবী। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নামের বানান সঠিক ছিল। কিন্তু এ বার ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ (যুক্তিগত গরমিল)-র কারণে পদবির বানান ভুল দেখানো হয়েছে। সেই কারণে তিনি শুনানির নোটিস পেয়েছেন।আর এবার একই চিত্র দেখা গেল বীরভূমে । স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। অনেকেরই প্রশ্ন, যাঁর দায়িত্ব ভোটার তালিকা যাচাই ও সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ, তাঁর নিজের নামের বানানেই যদি ত্রুটি থাকে, তবে গোটা ব্যবস্থার নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। বারবার কেন এমন ঘটনা ঘটছে না নিয়ে মেলেনি কোন প্রতিক্রিয়াও। সব মিলিয়ে, বিএলও-র নামের বানান সংক্রান্ত ত্রুটিকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক স্তর থেকে রাজনৈতিক মহল—সর্বত্রই জোর চর্চা শুরু হয়েছে।