চিত্র- সংগৃহীত
AK Bangla Desk: বাংলায় এক অভিনব ও বিতর্কিত উদ্যোগ ঘিরে উত্তাল হয়ে উঠল রাজ্য রাজনীতি। রঘুনাথগঞ্জ শহরে ‘ঝটকা’ মাংসের দোকান খুললেই এককালীন ১০ হাজার টাকার নগদ আর্থিক সহায়তার বিশেষ ঘোষণা করলেন জঙ্গিপুরের বিজেপি বিধায়ক চিত্ত মুখোপাধ্যায়। নিজের সোশাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে একটি পোস্টের মাধ্যমে বিধায়ক স্পষ্ট জানান, রঘুনাথগঞ্জ শহরের ভৌগোলিক সীমানায় যদি কোনও ব্যক্তি বা যুবক ঝটকা উপায়ে প্রসেস করা মাংসের দোকান খোলেন, তবে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে তাঁকে ১০ হাজার টাকার অনুদান দেবেন।
হঠাৎ কেন এই ধরনের উদ্যোগ? এই প্রশ্নের জবাবে জঙ্গিপুরের বিজেপি বিধায়ক চিত্ত মুখোপাধ্যায় জানান, তাঁর গোটা বিধানসভা এলাকা জুড়ে বর্তমানে একটিও ঝটকা মাংসের দোকান নেই। কিন্তু বহু সনাতনী হিন্দু পরিবার তাঁদের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় বিশ্বাস, আচার ও সংস্কার মেনে এই ঝটকা পদ্ধতির মাংস খেতেই পছন্দ করেন। তাই স্থানীয় বাজারে ক্রেতাদের সেই বিশেষ চাহিদা এবং ধর্মীয় আবেগের কথা মাথায় রেখেই তিনি এই উৎসাহ ব্যঞ্জক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এখানেই শেষ নয়, বিধায়ক আরও দাবি করেন যে, রাজ্যে বিজেপি ভাল ফল করার পর থেকেই অসংখ্য সাধারণ মানুষ ও তরুণ সমাজ তাঁর কাছে এসে এলাকায় ঝটকা মাংসের দোকান চালুর দাবি জানিয়েছিলেন। এই উদ্যোগ শুধু ধর্মীয় চাহিদাই মেটাবে না, বরং স্থানীয় স্তরে স্বনির্ভরতা ও নতুন কর্মসংস্থানের দিশাও দেখাবে বলে মনে করছেন তিনি।
নিজের বক্তব্যকে স্পষ্ট করে বিধায়ক বলেন, “এটি পুরোপুরি ক্রেতার ব্যক্তিগত পছন্দ এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের বিষয়। আমাদের এলাকায় বহু ছেলেমেয়ে বর্তমানে কাজের সন্ধান করছেন। আমি তাঁদের উৎসাহিত করতে চাই যেন তাঁরা মুরগি বা খাসির ঝটকা মাংসের দোকান খোলেন, কারণ এটি অত্যন্ত লাভজনক একটি ব্যবসা হতে পারে।”
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই বীজপুরের বিজেপি বিধায়ক সুদীপ্ত দাসও ঠিক একইভাবে ঝটকা মাংসের দোকান খোলার পক্ষে সওয়াল করে আর্থিক সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এবার বীজপুরের সেই পথ অনুসরণ করেই মুর্শিদাবাদের বুকে সরব হলেন চিত্ত মুখোপাধ্যায়। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই ধরনের ঘোষণার পেছনে হিন্দু ভোট ব্যাংক সংগঠিত করা এবং কর্মসংস্থানের বার্তার জোড়া উদ্দেশ্য রয়েছে। তবে এই সামাজিক মাধ্যম পোস্ট ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে।