ad
ad

Breaking News

Anubrata Mondal

শেষে এই দিন দেখতে হল কেষ্টকে! অনুব্রতর পার্টি অফিসে তালা ঝোলাল বিজেপি

“দলীয় কার্যালয় কারও একার নয়”, পাল্টা পুলিশ সুপার ও জেলাশাসকের দরবারে অনুব্রত

BJP Yuva Morcha Locks Anubrata Mondal's Bolpur TMC Office

চিত্র- সংগৃহীত

সৌতিক চক্রবর্তী, বোলপুর: বীরভূমের রাজনীতির একদা ‘বেতাজ বাদশা’ অনুব্রত মণ্ডলের (Anubrata Mondal) গড় বোলপুরে ঘটে গেল এক নজিরবিহীন ও চরম নাটকীয় ঘটনা! রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বীরভূমের সেই বিখ্যাত তৃণমূল দলীয় কার্যালয়ে নিয়মিত বসছিলেন ‘কেষ্ট’। কিন্তু মঙ্গলবার সাতসকালে সেই অফিসে সোজা গিয়ে তালা ঝুলিয়ে দিলেন বিজেপি যুব মোর্চার ক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা। কার্যালয়ের গেটে বড় তালা মেরে দিয়ে তার সামনে চলল বিজেপির হাই-ভোল্টেজ বিক্ষোভ। অনুব্রতর ডেরায় ঢুকে বিজেপির এই ‘তালা মারো’ অভিযানকে কেন্দ্র করে নতুন করে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে শান্তিনিকেতনের চত্বর।

রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর থেকে অনুব্রত মণ্ডল নিজেকে কার্যত ‘গৃহবন্দি’ করে রাখলেও বোলপুরের দলীয় কার্যালয়ে তাঁর যাতায়াত ছিল নিয়মমাফিক। প্রতিদিন দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি এই অফিস থেকেই নিজের অনুগামীদের নিয়ে বীরভূমের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছিলেন। সোমবারও বোলপুর পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর ও জেলার শীর্ষ নেতাদের নিয়ে এই কার্যালয়েই একটি গোপন বৈঠক করেছিলেন অনুব্রত। কিন্তু সেই বৈঠকের ঠিক ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই মঙ্গলবার সকালে সেখানে আকস্মিক হানা দেয় বিজেপি যুব মোর্চার একটি বিশাল দল। তাঁরা কার্যালয়ের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে চড়া সুরে রাজ্য সরকারের সমর্থনে এবং তৃণমূলের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শুরু করেন।

“পরিষেবা বন্ধ করে বদনামের চক্রান্ত”, তৃণমূল কাউন্সিলরদের বাড়ি ঘেরাওয়ের মারাত্মক হুঁশিয়ারি

বিজেপির যুব মোর্চার সভাপতি অরুণ দাস এই তালাবন্দি আন্দোলনের কারণ স্পষ্ট করে বলেন, “রাজ্যে এখন বিজেপি সরকার। কিন্তু এই পার্টি অফিসে বসে অনুব্রত মণ্ডল ও তাঁর দলবল চক্রান্ত করছেন। বোলপুর পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলরদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষের কোনও কাজ না করা হয়। রাস্তায় জঞ্জাল জমছে, নিকাশি ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, মানুষ ন্যূনতম নাগরিক পরিষেবা পাচ্ছেন না। শুধুমাত্র নতুন বিজেপি সরকারকে কালিমালিপ্ত করতেই তৃণমূল এই নোংরা দালালি করছে। এরপরেও যদি কাউন্সিলররা কাজ না করেন, তবে তাঁদের বাড়ি ঘেরাও করে স্তব্ধ করে দেওয়া হবে!”

“দলীয় কার্যালয় কারও একার নয়”, পাল্টা পুলিশ সুপার ও জেলাশাসকের দরবারে অনুব্রত

অনুব্রতর গড় হিসেবে পরিচিত এই কার্যালয়ে বিজেপির এমন দাপট ও তালা মারার ঘটনায় বীরভূম জুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এই বিষয়ে বোলপুর সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডলের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি কিছুটা ড্যামেজ কন্ট্রোলের সুরে বলেন, “সেখানে ঠিক কী ঘটেছে, আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি।” অন্যদিকে, নিজের অফিসে তালা পড়ার খবর পেয়েই আইনি ও প্রশাসনিক পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অনুব্রত মণ্ডল স্বয়ং। ক্ষুব্ধ কেষ্টর কড়া হুঁশিয়ারি, “দলীয় কার্যালয় কারও বাপের সম্পত্তি নয়। আমি ইতিমধ্যেই বীরভূমের জেলাশাসক (DM) এবং পুলিশ সুপারকে (SP) ফোন করে এই বেআইনি গুন্ডামির কথা জানিয়েছি। প্রশাসন এর ব্যবস্থা নেবে।” এই ঘটনার পর বোলপুর জুড়ে নতুন করে রাজনৈতিক হিংসা ছড়ানোর আশঙ্কায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।