চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের রেশ কাটতে না কাটতেই রাজনৈতিক রক্তক্ষরণে উত্তপ্ত হয়ে উঠল বীরভূমের লালমাটি। নানুর বিধানসভা এলাকায় এক তৃণমূল কর্মীকে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। মৃতের নাম আবির শেখ (৪৫)। এই ঘটনায় কেবল বীরভূম নয়, গোটা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।জানা গিয়েছে, মৃত আবির শেখ নানুর এলাকার তৃণমূলের অঞ্চল কমিটির সক্রিয় সদস্য ছিলেন। মঙ্গলবার তিনি সন্তোষপুরে নিজের পিসির বাড়ি থেকে ফিরছিলেন। পথে তাঁর আত্মীয় আলি হোসেনের সঙ্গে দেখা হয়, যিনি পেশায় কৃষক এবং ধান তুলে মাঠ থেকে ফিরছিলেন। অভিযোগ, তাঁরা দুজনে যখন একসঙ্গে যাচ্ছিলেন, তখনই ওত পেতে থাকা একদল দুষ্কৃতী তাঁদের ওপর আচমকা হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁদের এলোপাথাড়ি কোপানো হয় বলে দাবি স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের। ঘটনাস্থলেই আবির শেখের মৃত্যু হয় এবং তাঁর আত্মীয় আলি হোসেন গুরুতর জখম অবস্থায় বর্তমানে চিকিৎসাধীন।
বীরভূম জেলা বরাবরই তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হলেও, এবারের নির্বাচনে সমীকরণ বদলেছে। জেলার ১১টি আসনের মধ্যে ৬টিতেই জয়ধ্বজা উড়িয়েছে বিজেপি। অনুব্রত মণ্ডলের গড়ে গেরুয়া শিবিরের এই অভাবনীয় উত্থানের পরই বিভিন্ন জায়গা থেকে অশান্তির খবর আসতে শুরু করে। তৃণমূলের অভিযোগ, জয় নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই এলাকায় সন্ত্রাস কায়েম করছে বিজেপি কর্মীরা। আবির শেখকে একা পেয়ে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই পরিকল্পনা করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে দাবি ঘাসফুল শিবিরের।
অন্যদিকে, স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা এড়াতে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। রাজ্যের হবু শাসকদল বিজেপি যেখানে বারবার শান্তি বজায় রাখার বার্তা দিচ্ছে, সেখানে দলেরই কর্মীদের বিরুদ্ধে খুনের এই অভিযোগ বীরভূমের রাজনৈতিক উত্তাপকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিল। সংশ্লিষ্ট ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।