চিত্রঃ নিজস্ব
Bangla Jago Desk: বিধানসভা নির্বাচনের আগে বীরভূমে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও তীব্র। হুমায়ুন কবির-এর আমজনতা উন্নয়ন পার্টির বিরুদ্ধে এবার নিজের দলের প্রার্থীদেরই গুরুতর আর্থিক অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগ। অভিযোগ তুলে দল ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন তিন নেতা-প্রার্থী।
মঙ্গলবার বীরভূমে এক নাটকীয় ঘটনায় নানুর বিধানসভার প্রার্থী চিরন দাস, দুবরাজপুরের প্রার্থী শুভাশীষ দাস এবং জেলা নেত্রী রুবিনা বিবি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেন। তাদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি তথা হাঁসন বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী কাজল শেখ।
দলত্যাগী এই নেতাদের অভিযোগ, নির্বাচনে লড়াই করার জন্য আমজনতা উন্নয়ন পার্টির পক্ষ থেকে প্রত্যেক প্রার্থীকে প্রায় ১ কোটি টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই টাকা তারা পাননি। বরং নিজেদের উদ্যোগে ধারদেনা করে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা করে খরচ করতে হয়েছে তাদের।
তাদের আরও দাবি, বারবার টাকা চাওয়া সত্ত্বেও দলের শীর্ষ নেতৃত্ব কোনও সাড়া দেয়নি। এতে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি মানসিকভাবেও চাপে পড়েন।
এছাড়াও রুবিনা বিবি আরও একটি বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, সিউড়ির বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় তার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ রাখতেন। এমনকি বিজেপির কিছু কর্মীও তার সঙ্গে যোগাযোগ করতেন বলে অভিযোগ। রুবিনা বিবির কথায়, তাকে বলা হয়েছিল—আমজনতা উন্নয়ন পার্টির হয়ে লড়লে মুসলিম ভোট ভাগ হবে এবং তাতে বিজেপির জয়ের সম্ভাবনা বাড়বে।
এই ঘটনায় বীরভূমের রাজনৈতিক মহলে জোর চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। একদিকে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ, অন্যদিকে বিরোধী দলের সঙ্গে গোপন যোগাযোগের দাবি—সব মিলিয়ে নির্বাচনকে ঘিরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। এখন দেখার, এই অভিযোগের জবাবে হুমায়ুন কবির বা সংশ্লিষ্ট দল কী প্রতিক্রিয়া জানায় এবং নির্বাচন কমিশন এই বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ করে কিনা।