চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: চৈত্র-বৈশাখের চড়া রোদ আর প্যাচপেচে ঘামের যুগলবন্দিতে কার্যত নাজেহাল দক্ষিণবঙ্গের মানুষ। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, এখনই এই তীব্র গরম ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতি থেকে রেহাই পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। চলতি সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে একই রকম আবহাওয়া বজায় থাকবে। বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্য এবং আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ ক্রমশ বাড়তে থাকায় গরমের প্রকৃত অনুভূতি বা রিয়েল ফিল আরও কয়েক ডিগ্রি বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কলকাতার আকাশ বুধবার সকাল থেকেই আংশিক মেঘলা রয়েছে। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস, বিকেলের দিকে মহানগরের কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে অতি সামান্য বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর আগে মঙ্গলবার শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ২৮.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবারও তাপমাত্রার পারদ খুব একটা এদিক-ওদিক হবে না। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি ঘোরাফেরা করবে। তবে বাতাসে সর্বোচ্চ ৮৭ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ৬৪ শতাংশ আপেক্ষিক আর্দ্রতা থাকার কারণে গলদঘর্ম দশা বজায় থাকবে তিলোত্তমায়।
যদিও দক্ষিণবঙ্গের কিছু জেলায় সাময়িক স্বস্তির বার্তা দিয়েছে হাওয়া অফিস। বুধবার বিকেল গড়ানোর পর নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান ও বীরভূমে কালবৈশাখী আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর পাশাপাশি পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ, উত্তর ২৪ পরগনা ও হুগলি জেলাতেও বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তবে আবহাওয়া দপ্তরের স্পষ্ট বার্তা, এই ঝড়বৃষ্টি মূলত বিক্ষিপ্ত প্রকৃতির হবে। ফলে কিছু সময়ের জন্য পরিবেশ ঠান্ডা হলেও দীর্ঘস্থায়ী কোনো স্বস্তি মিলবে না দক্ষিণবঙ্গবাসীর।
দক্ষিণ যখন গরমে পুড়ছে, উত্তরের জেলাগুলিতে কিন্তু সম্পূর্ণ বিপরীত ছবি। বুধবার থেকেই দার্জিলিং থেকে শুরু করে মালদা পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের প্রায় প্রতিটি জেলাতেই দফায় দফায় ঝড়বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আলিপুর জানিয়েছে, আগামী রবিবার পর্যন্ত উত্তরের ওপরের পাঁচটি জেলায় ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে শুক্রবার জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ার জেলায় অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে।