চিত্র: সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: ভারত হল মন্দিরময় দেশ। সারা দেশের পথে প্রান্তরে কত যে এমন মণিমুক্তো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে তার কোন ইয়ত্তা নেই। আর এমন মণিমুক্তো যদি নিজেদের ঘরের কাছেই থাকে তাহলে তা হয়ে ওঠে আরও ঐশ্বর্যময়। মন্দিরের ঐশ্বর্য নিয়ে এমনই তিনটি গ্রাম স্বমহিমায় ভাস্বর এই বাংলায় (Hidden Heritage)।
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিধন্য শান্তিনিকেতনের খুব কাছেই তিনটি গ্রাম সুরুল, সুপুর ও ইতণ্ডা রয়েছে। সুরুল বোলপুরের এক পুরনো ঐতিহ্যময় স্থান। এই গ্রামের জমিদার সরকার বাড়ির চৌহদ্দির মধ্যে পোড়ামাটির কারুকাজ করা মন্দির রয়েছে। এরমধ্যে দুর্গাদালানের পাশে পঞ্চরত্ন লক্ষ্মীজনার্দনের মন্দির এবং শিখর রীতিতে তৈরি শিবমন্দির বিশেষ ভাবে দর্শনীয় (Hidden Heritage)।
১৮ শতকে নির্মিত লক্ষ্মী জনার্দন মন্দিরের প্রবেশদ্বার তিনটি খিলানযুক্ত। এর ওপরে টেরাকোটার কাজের রাক্ষসদের সঙ্গে হনুমান বাহিনীর যুদ্ধ চিত্র রয়েছে। অন্যদিকে প্রসাধনরতা নারীদের উপস্থিতিও বেশ হৃদয়গ্রাহী। শিখর রীতিতে তৈরি শিবমন্দিরের দেওয়ালের গায়ে নানা দেবদেবী, ভগীরথের গঙ্গা আনয়নের দৃশ্য, মহিষাসুরমর্দিনী দুর্গার প্রতিকৃতি স্থান পেয়েছে (Hidden Heritage)। ইউরোপীয় বেশে নারী মূর্তি ইত্যাদি পোড়ামাটির শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে।
সুরুলের পাশাপাশি আরেকটি নাম চলে আসে যা হল সুপুর। অতীতে নাম ছিল স্বপুর। কিংবদন্তি অনুসারে, পৌরাণিক রাজা সুরথ রাজ্যহারা হয়ে এখানেই তপস্যা করেন। এখানে আছে ২টি শিবমন্দির রয়েছে। ২টি শিবমন্দির জোড়ামন্দির বলে পরিচিত। এছাড়াও আটকোণা শিখর মন্দির রয়েছে যার দেওয়ালে টেরাকোটার অপূর্ব সুন্দর কাজকর্ম দেখা যায়।
সুরুল, সুপুরের পাশাপাশি একই ভাবে উচ্চারিত হয় শান্তিনিকেতন থেকে কিছুদূরে অবস্থিত ইতণ্ডা গ্রামের কথা। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কমার্শিয়াল রেসিডেন্ট হয়ে ১৭৮২ সালে বীরভূমে আসেন জন চিপ। ইতণ্ডা গ্রামে তিনিই প্রথম নীল চাষ করেন। নীল ভেজানোর চৌবাচ্চার ধ্বংসাবশেষ দেখতে পাওয়া যায়। বীরভূমের সবচেয়ে সুন্দর ভাঙা দেউল দেখতে পাওয়া যায় ইতণ্ডা গ্রামে। এটি বীরভূমের শেষ জোড় বাংলা মন্দির (Hidden Heritage)।