চিত্র- AI
Bangla Jago Desk: বেলডাঙার অশান্তি নিয়ে তদন্তের জল গড়িয়েছে বহুদূর। একদিকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ (NIA) যখন তদন্ত শুরু করতে মরিয়া, তখন অন্যদিকে রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে আবারও আইনি লড়াইয়ের পথ ধরল তারা। মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ঘটা সেই তাণ্ডবের ছায়া এবার কলকাতা হাইকোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্ট হয়ে পৌঁছেছে বিচার ভবনের এজলাসে।
বেলডাঙা কাণ্ডে এনআইএ তদন্তের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করতে রাজি হয়নি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ। শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনের (UAPA) ১৫ নম্বর ধারা প্রয়োগ করা যাবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেবে কলকাতা হাইকোর্ট। তবে এরই মাঝে এনআইএ বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছে যে, সুপ্রিম নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও রাজ্য পুলিশ বেলডাঙা ঘটনার কেস ডায়েরি তাদের হাতে তুলে দিচ্ছে না। এই গড়িমসি নিয়ে দিন দুয়েক আগে কলকাতার বিচার ভবনে তদন্তকারী অফিসারকে তীব্র প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। শেষ পর্যন্ত বিচারক নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী ২৬শে ফেব্রুয়ারির মধ্যে সমস্ত কেস ডায়েরি হস্তান্তর করতে হবে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৬ই জানুয়ারি। ঝাড়খণ্ডে মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের রহস্যমৃত্যুর খবর পৌঁছোতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে বেলডাঙা। আলাউদ্দিনের নিথর দেহ এলাকায় আসতেই সাধারণ মানুষ ভিন্রাজ্যে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রতিবাদে সরব হন। সেই বিক্ষোভই একসময় চরম অশান্তির রূপ নেয়। রাজ্য পুলিশ দ্রুত তদন্তে নেমে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করলেও, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর করা জনস্বার্থ মামলার প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট নির্দেশ দেয় যে কেন্দ্র চাইলে এনআইএ-কে দিয়ে তদন্ত করাতে পারে।
রাজ্য সরকার হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে গেলেও সেখানে বিশেষ সুবিধা করতে পারেনি। শীর্ষ আদালত এনআইএ-কে নির্দেশ দিয়েছে একটি মুখবন্ধ খামে রিপোর্ট পেশ করতে। তবে কেস ডায়েরি না পাওয়ায় এনআইএ-র আইনজীবী আদালতে দাবি করেছেন যে তাঁরা এখনও তদন্তই শুরু করতে পারেননি। বিচার ভবনের ডেডলাইনের পর এবার গোটা বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টেরও দ্বারস্থ হয়েছে কেন্দ্রীয় এই সংস্থা।