চিত্র- সংগৃহীত
গোপাল শীল, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: বারুইপুরের নাবালিকা ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর ছড়ানো ভয়াবহ হিংসার ঘটনায় এবার নজিরবিহীন অ্যাকশন শুরু করল রাজ্য পুলিশ। মঙ্গলবার বারুইপুরে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাঙ্গাবাজ ও রেললাইন উপড়ে ফেলা দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে যে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, তার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই খাস কলকাতা সংলগ্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হল ২০ জন অভিযুক্তকে। সরকারি সম্পত্তি নষ্ট, পুলিশের ওপর হামলা এবং রেললাইন উপড়ে ট্রেন চলাচলে ব্যাঘাত ঘটানোর অভিযোগে ধৃতদের বুধবার সকালেই বারুইপুর আদালতে তোলা হয়েছে।
বারুইপুরের নাবালিকা মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের রূপ নিয়েছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ এলাকা। উন্মত্ত জনতা রাস্তা অবরোধ করার পাশাপাশি শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার রেললাইন উপড়ে ফেলে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ স্তব্ধ করে দেয়। শুধু তাই নয়, সরকারি বাসে ভাঙচুর এবং কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীদের ওপর ইট-বৃষ্টি করে লাঠিচার্জ করতে বাধ্য করা হয়েছিল প্রশাসনকে। মঙ্গলবারই বারুইপুরে পুলিশ লাইনে এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন, “যারা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়িয়েছে এবং দেশবিরোধী কাজ করেছে, তাদের কাউকে রেয়াত করা হবে না।”
মুখ্যমন্ত্রীর সেই নির্দেশের পর রাতেই বারুইপুরের বিভিন্ন ব্লকে চিরুনি তল্লাশি চালায় জেলা পুলিশ। ভিডিও ফুটেজ ও সোর্স মারফত দাঙ্গাবাজদের শনাক্ত করে বুধবার ভোরের মধ্যে ২০ জনকে গ্রেফতার করে লকআপে পোরা হয়। ধৃতদের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট, পুলিশের ওপর প্রাণঘাতী হামলা এবং রেলের আইন লঙ্ঘনের একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
বুধবার সকালে বিশাল পুলিশি প্রহরায় ধৃত ২০ জনকে যখন বারুইপুর আদালতে নিয়ে আসা হয়, তখন আদালত চত্বরে ছিল থমথমে পরিবেশ। খবর পেয়ে অভিযুক্তদের পরিবারের সদস্যরা দলে দলে আদালত প্রাঙ্গণে ভিড় জমান। লকআপে ঢোকানোর সময় ধৃতরা সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে চিৎকার করে দাবি করতে থাকে, “আমরা কোনও অশান্তি করিনি, পুলিশ আমাদের অন্যায়ভাবে বাড়ি থেকে তুলে এনে ফাঁসিয়েছে!” কোনওরকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা নতুন করে আইন-শৃঙ্খলা যাতে বিঘ্নিত না হয়, তার জন্য আদালত চত্বরকে কার্যত দুর্গে পরিণত করেছে বারুইপুর পুলিশ জেলা।
উদ্বেগজনক এই পরিস্থিতির মাঝেই মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের পুলিশি এনকাউন্টারে মৃত্যুর ঘটনাটি এই মামলাকে সম্পূর্ণ নতুন মোড় দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই দাবি করেছেন যে, বারুইপুরের এই হিংসার নেপথ্যে রয়েছে ছাব্বিশের নির্বাচনে গোহারা হারা কিছু রাজনৈতিক দলের মদতপুষ্ট মৌলবাদী ও দেশবিরোধী শক্তির সুগভীর চক্রান্ত। পুলিশ ইতিমধ্যেই ২০০ জন সন্দেহভাজন দাঙ্গাবাজকে চিহ্নিত করেছে, যাদের কল রেকর্ড খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একইসঙ্গে, উত্তেজনার সুযোগ নিয়ে যে সন্দেহভাজন যুবককে গণপিটুনি দিয়ে পিটিয়ে মারা হয়েছে, সে সম্পূর্ণ নির্দোষ ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, নাবালিকার ধর্ষকদের পাশাপাশি ওই নির্দোষ যুবকের খুনি ও রেললাইন উপড়ানো দাঙ্গাবাজদের প্রত্যেককে খুঁজে বের করে জেলের ভাত খাওয়ানো হবে।