চিত্র- সংগৃহীত
গোপাল শীল, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা: বারুইপুরে নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় বড় মোড়। পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হল ধৃত অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের। পুলিশ সূত্রে দাবি, ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য মঙ্গলবার গভীর রাতে প্রভাসকে বারুইপুরের সূর্যপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানেই পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করে অভিযুক্ত। আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায় পুলিশ। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। বারুইপুর-কাণ্ডের তদন্তে নেমে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিসিটিভি ফুটেজ হাতে পায় পুলিশ। সেই ফুটেজে দেখা যায়, নাবালিকার সঙ্গে প্রভাস মণ্ডল নামে এক যুবক রাস্তা দিয়ে হাঁটছে। এরপরই তাকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, প্রভাসকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই উদ্ধার করা হয় নাবালিকার বস্তাবন্দি দেহ।
তদন্তকারীদের দাবি, মঙ্গলবার গভীর রাত, অর্থাৎ বুধবার ভোররাত প্রায় ১২টা ৪৫ মিনিট নাগাদ বারুইপুর থানার মামলা নম্বর ১৩৫০/২৬-এর তদন্তকারী আধিকারিক ও তাঁর দল প্রভাস মণ্ডলকে নিয়ে সূর্যপুরে যান। উদ্দেশ্য ছিল অপরাধস্থলের পুনর্নির্মাণ বা ক্রাইম রিকনস্ট্রাকশন। ঘটনাস্থলে পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ার আগেই প্রভাস আচমকা এক পুলিশকর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেয় বলে দাবি পুলিশের। পুলিশের বক্তব্য, অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার পর প্রভাস পুলিশ দলকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলি চালায় এবং সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ও আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়। সেই গুলিতেই গুরুতর জখম হয় প্রভাস। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে দ্রুত বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। কীভাবে অভিযুক্ত পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে নিল, সেই নিয়েও পৃথকভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।