চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: বারুইপুর-কাণ্ডে এবার রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ল। দুপুরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সুজন চক্রবর্তী-সহ চার সিপিএম নেতার বিরুদ্ধে বারুইপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করল বিজেপি। তাঁদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, সোশাল মিডিয়া ও জনসমক্ষে প্ররোচনা, উস্কানিমূলক মন্তব্য, মিথ্যা খবর ছড়ানো এবং দাঙ্গা লাগানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বারুইপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন বিজেপির ৪ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি অরুণ প্রধান। অভিযোগপত্রে সুজন চক্রবর্তী ছাড়াও লাহেক আলি, মোনালিসা সিনহা এবং সইফুদ্দিন মণ্ডলের নাম রয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, বারুইপুরে অশান্তি ছড়ানোর পিছনে এই নেতাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। পাশাপাশি অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিও জানানো হয়েছে।
নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় রবিবার থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বারুইপুর। ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। রাস্তা অবরোধ, রেল অবরোধ, পুলিশের উপর হামলা এবং সরকারি সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় বিশাল পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়। এই অশান্তির মধ্যেই এক সন্দেহভাজন যুবককে পিটিয়ে খুন করে উত্তেজিত জনতা। মঙ্গলবার বারুইপুরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, গণপিটুনিতে নিহত ওই যুবক নির্দোষ ছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, বারুইপুরের অশান্তির পিছনে মৌলবাদী ও দেশবিরোধী শক্তির হাত রয়েছে। ভোটে হারের পর পরিকল্পিতভাবে হিংসায় উস্কানি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, পুলিশের হাতে বেশ কিছু কল রেকর্ডিং এসেছে এবং সেগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
শুভেন্দু অধিকারীর হুঁশিয়ারি ছিল, যারা অশান্তি ছড়িয়েছে, তাদের কাউকে রেয়াত করা হবে না। সরকার আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেবে। তাঁর এই মন্তব্যের পরই সন্ধ্যায় সুজন চক্রবর্তী-সহ চার সিপিএম নেতার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে বিজেপি। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে। বারুইপুর-কাণ্ডে ধর্ষণ ও খুনের তদন্তের পাশাপাশি এবার অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগেও আলাদা করে নজর দিচ্ছে প্রশাসন। ফলে নাবালিকার মৃত্যুকে ঘিরে শুরু হওয়া ক্ষোভ এখন স্পষ্টভাবেই রাজনৈতিক সংঘাতের নতুন মোড় নিয়েছে।