চিত্র- এআই নির্মিত
Bangla Jago Desk: বারুইপুরের নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের পুলিশি এনকাউন্টারে মৃত্যুর ঘটনাটি গোটা রাজ্যের রাজনীতিকে তোলপাড় করে দিয়েছে। এনকাউন্টার নিয়ে যখন বিভিন্ন মহলে আইনি প্রশ্ন উঠছে, ঠিক তখনই রাজ্য প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপের পাশে এসে দাঁড়ালেন ২০১৩ সালের কলকাতার কামদুনি গণধর্ষণ কাণ্ডের অন্যতম দুই লড়াকু মুখ, টুম্পা কয়াল ও মৌসুমি কয়াল। বর্তমান সরকারের এই ‘স্পট অ্যাকশন’-কে স্বাগত জানিয়ে তাঁরা সরাসরি তোপ দেগেছেন বিগত তৃণমূল সরকার এবং রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে সূর্যপুরে অপরাধ পুনর্নির্মাণের সময় পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে পালাতে গিয়ে গুলিতে খতম হয় অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল। এই খবরের পরই সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজেদের দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ উগরে দেন কামদুনির টুম্পা ও মৌসুমি কয়াল। তাঁরা স্পষ্ট জানান, “আমরা কামদুনি কাণ্ডে ১৩ বছর ধরে লড়াই করেও সঠিক বিচার পাইনি। তাই আমরা চাই, বাংলার মাটিতে যত ধর্ষক ও খুনি রয়েছে, তাদের প্রত্যেকের পরিণতি যেন এই প্রভাসের মতোই হয়। সমস্ত দোষীদের এভাবেই এনকাউন্টার করে অন স্পট খতম করা উচিত। তবেই এই সমাজ কলঙ্কমুক্ত হবে এবং অপরাধীরা ভয় পাবে।”
বিগত সরকারের প্রতি একরাশ উষ্মা প্রকাশ করে মৌসুমি কয়াল বলেন, “তৎকালের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি সেসময় কামদুনির দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসি বা কড়া শাস্তি দিতেন, তবে আজ বাংলায় বারুইপুরের মতো নৃশংস ঘটনা ঘটানোর সাহস পেত না কেউ। তৃণমূল সরকার সবসময় অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা করেছে।” তাঁদের অভিযোগ, কামদুনির প্রতিবাদের সময় খোদ মুখ্যমন্ত্রী সান্ত্বনা দেওয়ার বদলে উল্টে আন্দোলনকারীদের ‘মাওবাদী’ বলে দেগে দিয়েছিলেন এবং তাঁদের ওপর বারবার তৃণমূলের রোষ নেমে এসেছিল।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে কামদুনিতে ২০ বছরের এক কলেজ ছাত্রীকে গণধর্ষণ ও নৃশংস খুনের ঘটনায় ২০১৬ সালে নিম্ন আদালত ৩ জনের ফাঁসি ও ৩ জনের যাবজ্জীবনের রায় দিলেও পরবর্তীতে কলকাতা হাইকোর্টে সেই সাজা অনেকখানি মুকুব হয়ে যায়। দু’জনের যাবজ্জীবন হলেও বাকি তিন জন উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে বেকসুর খালাস পেয়ে যায়। টুম্পা-মৌসুমির দাবি, তৎকালীন রাজ্য পুলিশের তদন্তে চরম গাফিলতি ও সঠিক তথ্যপ্রমাণ আদালতে পেশ না করার কারণেই কামদুনির আত্মা আজও বিচার পায়নি। আর সেই কারণেই বারুইপুরের এই পুলিশি এনকাউন্টারকে অপরাধ দমনের একমাত্র সঠিক পথ বলে মনে করছেন তাঁরা। এই এনকাউন্টারের জেরে বাংলার সাধারণ মেয়েরা আজ কিছুটা হলেও মানসিক শান্তি পেয়েছে বলে দাবি কামদুনির এই দুই প্রতিবাদী মুখের।