ad
ad

Breaking News

Bankura Resort

গ্যাস নেই, শুকনো পাতাই ভরসা! বাঁকুড়ার রিসোর্টের উদ্যোগে আয় বাড়ল এলাকাবাসীর

বাঁকুড়া জেলার জয়পুরে এক রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ অভিনব উদ্যোগ নিয়ে সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি এলাকাবাসীর কর্মসংস্থানেরও ব্যবস্থা শুরু করল

Bankura Resort Uses Dry Forest Leaves as Cooking Fuel

চিত্রঃ নিজস্ব

কৈলাস বিশ্বাস, বাঁকুড়া: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তারই প্রভাব এবার পড়তে শুরু করেছে রাজ্যের হেঁসেলেও। বাণিজ্যিক গ্যাসের জোগান অনিয়মিত হয়ে পড়ায় সমস্যায় পড়ছেন হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিকরা। এই পরিস্থিতিতে বাঁকুড়া জেলার জয়পুরে এক রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ অভিনব উদ্যোগ নিয়ে সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি এলাকাবাসীর কর্মসংস্থানেরও ব্যবস্থা শুরু করল। অরণ্যে ঘেরা জয়পুরে রয়েছে একাধিক সরকারি ও বেসরকারি রিসোর্ট।তার মধ্যেই একটি রিসোর্ট গ্যাস সংকট মোকাবিলায় জঙ্গল থেকে ঝরে পড়া শুকনো পাতা কিনে মজুত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্থানীয় মানুষজন জঙ্গল থেকে শুকনো পাতা সংগ্রহ করে রিসোর্টে নিয়ে এলে তা তারা কিনে নিচ্ছেন। এই পাতাই এখন রান্নার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

রিসোর্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন রান্নার জন্য আগে প্রায় কুড়িটিরও বেশি গ্যাস সিলিন্ডার প্রয়োজন হতো।কিন্তু বর্তমানে গ্যাসের জোগান অনিয়মিত হয়ে পড়ায় বুকিং করলেও সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে এখন মাত্র তিন থেকে চারটি সিলিন্ডার ব্যবহার করে শুধুমাত্র চাইনিজ খাবার রান্না করা হচ্ছে। অন্যদিকে হোটেলের বাকি খাবার রান্না করা হচ্ছে শুকনো পাতার আগুনে।

রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, ইতিমধ্যেই প্রায় ১৩ লক্ষ টাকার শুকনো পাতা কিনে মজুত করা হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন গ্যাসের অভাবে হোটেলের কাজ থমকে যাওয়ার আশঙ্কা দূর হয়েছে, অন্যদিকে এলাকার দরিদ্র মানুষদের জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রিসোর্টের এই উদ্যোগের কথা জানার পর থেকেই অনেকেই সকালবেলা জঙ্গলে গিয়ে শুকনো পাতা সংগ্রহ করছেন। পরে সেগুলি রিসোর্টে বিক্রি করে বাড়তি রোজগার করছেন। একইসঙ্গে জঙ্গলে পড়ে থাকা শুকনো পাতার স্তূপ কমে যাওয়ায় বনাঞ্চলে আগুন লাগার আশঙ্কাও কিছুটা কমবে বলে মনে করছেন অনেকে। গ্যাস সংকটের মধ্যেও এমন উদ্যোগে একদিকে যেমন বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ছে, তেমনি পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক সুরাহাও হচ্ছে বলে মত স্থানীয়দের।