চিত্র: নিজস্ব
বিশ্বদীপ নন্দী, বালুরঘাট: কথায় আছে, বয়স নয়, ইচ্ছের জোরেই গড়ে ওঠে সাফল্যের পথ। সেই কথাকেই এবার প্রমাণ করে দেখালেন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট শহরের আমবাগান এলাকার গৃহবধূ শর্মিষ্ঠা চক্রবর্তী। সংসার, সন্তান আর দৈনন্দিন দায়িত্বের ফাঁকে নিজের স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরে রাজ্য স্তরের পাওয়ার লিফটিং প্রতিযোগিতায় নজরকাড়া সাফল্য এনে দিলেন তিনি (Balurghat)।
গত ১৮ জানুয়ারি কলকাতার বাঙুরে অশোক আখাড়া ব্যায়াম মন্দিরের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত রাজ্য পর্যায়ের পাওয়ার লিফটিং প্রতিযোগিতায় ৬৫ কেজি বিভাগে ডিপ স্কোয়াট ও ডেড লিফট—এই দুই বিভাগেই প্রথম স্থান অধিকার করেন শর্মিষ্ঠা। পাশাপাশি দুটি বিভাগে সেরা হওয়ার সুবাদে বিশেষ পদকও জিতে নেন তিনি। গোটা রাজ্য থেকে ৫০ থেকে ৬০ জন প্রতিযোগীর মধ্যে নিজের বিভাগেই ছিলেন ২০ জনের বেশি প্রতিদ্বন্দ্বী। শর্মিষ্ঠার এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে দীর্ঘ দিনের লড়াই।
২০১৬ সালের দিকে ওজন বেড়ে যাওয়ায় নানা কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। তখন দাদা সুরজিৎ চক্রবর্তীর অনুপ্রেরণাতেই ব্যায়াম শুরু। প্রথমে সাধারণ শরীরচর্চা, পরে ধীরে ধীরে ঝোঁক বাড়ে ওয়েট লিফটিংয়ের দিকে। ছয় বছরের এক শিশু সন্তান থাকা সত্ত্বেও সংসারের কাজ সামলে নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে গিয়েছেন তিনি।নিজের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে শর্মিষ্ঠা বলেন, সংসার সামলে পাওয়ার লিফটিংকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়া সহজ নয়। নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়। তবু এই খেলাকে তিনি ভালোবাসেন, আর সেই ভালবাসাই তাঁকে প্রতিটি বাধা পেরোতে সাহায্য করেছে (Balurghat)।
আশেপাশের গৃহবধূদের উদ্দেশে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, গৃহবধূ বলে পিছিয়ে থাকবেন না। যেটা ভালোবাসেন, সেটাকে আঁকড়ে ধরুন। সাফল্য একদিন আসবেই।শর্মিষ্ঠার দাদা সুরজিৎ চক্রবর্তী জানান, এক সময় অতিরিক্ত ওজনের জন্য মানুষজন হাসাহাসি করত। তখনই তাঁকে দীপালী নগর মাঠে প্রথম শরীরচর্চার পথে আনেন তাঁরা। ধীরে ধীরে ওয়েট লিফটিংয়ের প্রতি ভালবাসা তৈরি হয়। আজ সেই ভালোবাসাই এনে দিয়েছে রাজ্য স্তরের সাফল্য। দাদা হিসেবে যেমন, তেমনই একজন জেলা বাসিন্দা হিসেবেও তিনি গর্বিত। সংসারের গণ্ডি পেরিয়ে রাজ্যের মঞ্চে দাঁড়িয়ে বালুরঘাটের এই গৃহবধূ প্রমাণ করে দিলেন—ইচ্ছে থাকলে সত্যিই অসম্ভব বলে কিছু নেই (Balurghat)।