চিত্রঃ সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: পাঁচ বছর আগে চাকরি থেকে অব্যাহতি নেওয়া রাজ্যের এক সহকারী অধ্যাপিকাকে সম্প্রতি উচ্চশিক্ষা দফতর থেকে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে, যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতি ও প্রশাসনে জল্পনা শুরু হয়েছে। চিঠির সময়, তারিখ ও প্রাপক, সবটাই রহস্যের জন্ম দিয়েছে। প্রাপক আর কেউ নন, তিনি হলেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় জানাচ্ছেন, চিঠিটি তাঁর গোলপার্কের ফ্ল্যাটে পৌঁছায় গত ১৬ অক্টোবর। অথচ, চিঠির উপরে তারিখ দেওয়া রয়েছে তার প্রায় সওয়া দুই মাস আগের— ৮ অগস্ট, ২০২৫। এর থেকেও গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে, তা হলো – চিঠিটি ঠিক সেই সময়েই তাঁর বাড়িতে পৌঁছাল, যখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের দার্জিলিঙে বৈঠকের পরের দিন। এর একদিন পরেই শোভন চট্টোপাধ্যায়কে ‘নিউটাউন কলকাতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ (এনকেডিএ)-এর চেয়ারম্যান পদে নিযুক্তির বিজ্ঞপ্তি জারি করে রাজ্য সরকার (Baisakhi Banerjee)।
আরও পড়ুনঃ Lucky Horoscope: আজ বিরল ‘রবি যোগ’, দেখে নিন আজকের সম্পূর্ণ রাশিফল
বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তুলেছেন, “চিঠিটি যদি সত্যিই ৮ অগস্টে লেখা হয়ে থাকে, তাহলে গোটা উচ্চশিক্ষা বিভাগ ছুটিতে থাকাকালীন ১৬ অক্টোবর কেন বিশেষ বার্তাবাহকের হাত দিয়ে তা পাঠানো হলো?” তিনি আরও জানান, চিঠিটি যখন পৌঁছায়, তখন তাঁরা দার্জিলিঙে ছিলেন এবং সেই রাতে কলকাতায় ফিরেছেন। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু অবশ্য এই বিষয়ে সম্পূর্ণ অজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেছেন, “আমি এই রকম কোনও চিঠির বিষয়ে কিছু জানি না। খোঁজ নিয়ে দেখছি।” চিঠিতে উচ্চশিক্ষা দফতর জানিয়েছে যে, মধ্য কলকাতার মিল্লি আল আমিন কলেজে সহকারী অধ্যাপিকা হিসেবে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় যে তারিখ পর্যন্ত কাজ করেছিলেন, তারও এক বছর আগের তারিখে অর্থাৎ ২০১৯ সালের ডিসেম্বরেই তাঁর চাকরির পরিসমাপ্তি ঘটেছে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে। আসলে, মিল্লি আল আমিন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষা তথা ডিডিও পদে থাকা বৈশাখী ২০১৯ সালের ৫ ডিসেম্বর প্রথমবার ইস্তফা দেন। অস্থায়ী পরিচালন সমিতি সেই ইস্তফা গ্রহণ করলেও, উচ্চশিক্ষা দফতর পরে জানায়, এই ইস্তফা গ্রহণ করার এক্তিয়ার তাদের নেই। ফলে বৈশাখী পদে বহালই ছিলেন। এরপর ২০২০ সালের ৪ ডিসেম্বর বৈশাখীকে রামমোহন রায় কলেজে বদলি করা হলে তিনি সেখানে যোগ না দিয়ে পুনরায় ইস্তফা দেন (Baisakhi Banerjee)।
Bangla Jago fb page: https://www.facebook.com/share/17CxRSHVAJ/
সাম্প্রতিক চিঠিতে উচ্চশিক্ষা দফতর বৈশাখীকে ২০১৯ সালের ৫ ডিসেম্বরের পরেও চাকরিতে বহাল রাখার এবং পরে রামমোহন রায় কলেজে বদলি করার সমস্ত নির্দেশ বাতিল করেছে। শিক্ষা দফতরের এই নতুন নির্দেশের ফল সুদূরপ্রসারী হতে পারে। এর অর্থ হলো, শেষ এক বছর বৈশাখী যে বেতন নিয়েছেন, তা তাঁর ‘প্রাপ্য’ নয়। এই সময়ের বেতন তাঁকে ফেরত দিতে হতে পারে। এমনকি, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষা তথা ডিডিও হিসাবে ওই সময়কালে তিনি যে সব আর্থিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, সেগুলোর বৈধতাও প্রশ্নের মুখে পড়বে। তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণের প্রেক্ষাপটে অনেকে মনে করছেন, শোভন চট্টোপাধ্যায়ের প্রশাসনে প্রত্যাবর্তনকে যাঁরা ‘মসৃণ’ হতে দিতে চান না, এই চিঠির নেপথ্যে তাঁদেরও ভূমিকা থাকতে পারে। বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তিনি উচ্চশিক্ষা দফতরকে চিঠি লিখে এই নির্দেশ সংশোধন করার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “সংশোধন না হলে আমাকে তো আইনি পদক্ষেপ করতেই হবে।” ফলে, শোভন চট্টোপাধ্যায় যখন প্রশাসনের দায়িত্বে ফিরছেন, তখন তাঁর সঙ্গী বৈশাখীকে রাজ্যের প্রশাসনের বিরুদ্ধেই আদালতে যেতে হতে পারে (Baisakhi Banerjee)।